মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ট্রাম্প, ৮২ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষ

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ ট্রাম্প, ৮২ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের অসন্তোষ

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এর আগে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতা তার প্রশাসনের জন্য এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে আটজনই নিত্যপণ্যের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের পদক্ষেপে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আধুনিক মার্কিন রাজনীতির ইতিহাসে কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে এমন নজিরবিহীন জনরোষ একেবারেই বিরল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এপি-এনওআরসি এর সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ৮২ শতাংশ মার্কিনি ট্রাম্পের ওপর অনাস্থা জানিয়েছেন, বিপরীতে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের চরম মেরুকৃত রাজনীতিতে যেকোনো বিষয়ে ৭০ শতাংশ মানুষের একমত হওয়াই যেখানে কঠিন, সেখানে মুদ্রাস্ফীতির মতো জাতীয় বিষয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ একাট্টা হয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধাচরণ করছেন। এর আগে রয়টার্স-ইপসোস এবং মারকেট ল স্কুলের জরিপেও দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের পক্ষে অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ১৭ থেকে ১৯ শতাংশে। এমনকি রিপাবলিকান দলের সমর্থকদের মধ্যেও অন্তত ৫০ শতাংশ এবং নিজেকে ‘মাগা’ সমর্থক দাবি করা কট্টর রিপাবলিকানদের ২৯ শতাংশ ট্রাম্পের এই ব্যর্থতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশটির অতীতের বহু অজনপ্রিয় যুদ্ধ বা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির চেয়েও ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে জনরোষের মাত্রা বেশি। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার সময় প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের বিরুদ্ধে ৭৭ শতাংশ এবং ১৯৮০ সালে জিমি কার্টারের উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে অসন্তোষ ছিল ৭৪ শতাংশ।

এমনকি ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বুশের ইরাক যুদ্ধ বা প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির চরম মুহূর্তেও এমন মাত্রার বিরূপ জনমত দেখা যায়নি। এদিকে টাইম ম্যাগাজিনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সাধারণ মানুষকে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের জন্য তাঁকে দায়ী না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসনের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এ কৌশল কাজে আসছে না। এপি-এনওআরসির তথ্যমতে, ৬৫ শতাংশ মার্কিনি বর্তমান চড়া মূল্যের জন্য ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকেই দায়ী করছেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকানদের জন্য জনগণের এই বিপুল অর্থনৈতিক হতাশা এখন অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে।