দীর্ঘ ৩১ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের দেওড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পেলো নতুন ভবন। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বুধবার লে-আউটের মাধ্যমে ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে দেওড়া, মলাইশ ও গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের। আনন্দে ভাসছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, গ্রামবাসী, ঢাকাস্থ প্রগতি সংঘের উদ্যোগে প্রয়াত ইউনুছ মিয়ার জায়গা দানের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে দেওড়া গ্রামে প্রথমে ‘দেওড়া জুনিয়র হাইস্কুল’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
সেইসঙ্গে এমপিওভুক্ত হওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৯ সালে এ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩৪ জন শিক্ষার্থী প্রথমবারের মতো মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের মাধ্যমে উপজেলায় সাড়া জাগায়। এবার তিনটি জিপিএ-৫ ও ৭৫.৫৬ ভাগ পাস করে উপজেলায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে বিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে উত্তর পাশে নির্মিত একচালা টিনশেড ঘরটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত। ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ফ্যাসিলেটিজের অর্থায়নে নির্মিত পশ্চিম পাশের দ্বিতল ভবনটিও নড়বড়ে। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে প্রায় ১১শ’ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে ওই কক্ষগুলোতে। নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘ ৩১ বছর বিদ্যালয় নতুন ভবন পায়নি। কয়েকজনের প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালের শেষের দিকে সরকারের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এই স্কুলের জন্য একটি ভবন মঞ্জুর করেন। ৪ তলা ফাউন্ডেশনের একতলা বিশিষ্ট ওই ভবন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৪০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ পারসেন্ট লেস দিয়ে ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৯ হাজার ১০০ টাকায় কাজটি নিয়েছেন।
গত ৩০শে সেপ্টেম্বর বুধবার লে-আউটের মাধ্যমে নির্মাণকাজের উদ্বোধন হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. ইব্রাহিম হোসেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাসেল মুন্সী, শাহজাদাপুর ইউপি প্রশাসক ও সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. পারভেজ আহমেদ, গ্রামের সন্তান দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক সভাপতি শামীমুল হক, প্রভাষক ও গণমাধ্যম কর্মী মোহাম্মদ মাহবুব খান, ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার মিয়া, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইউনুছুল হক, সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুবুর রহমান, সাবেক সহকারী শিক্ষক মো. মনিজুর রহমান, পিটিএ’র সভাপতি ও ইউপি যুবদলের সাবেক সভাপতি ইমরান খান, সহ-সভাপতি রাধা মোহন, ইউপি সদস্য আলী রাজা, সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য শারমিন আক্তার, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. ছানাউল হক, সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, মো. সোহেল মিয়া, মো. বশির আহমেদ প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মো. রাকিবুল হক। প্রধান শিক্ষক ইউনুছুল হকসহ একাধিক শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বলেন, তিন গ্রামের সকল মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন ভবন। দেওড়া গ্রামের কয়েকজন কৃতী সন্তানের প্রাণপণ চেষ্টায় ভবন হচ্ছে। বিশেষ করে শামীমুল হক ও মাহবুব খানের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
