সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি উৎকণ্ঠায় পরিবার

সুন্দরবনে অপহৃত ২১ জেলে ৭ দিনেও উদ্ধার হয়নি উৎকণ্ঠায় পরিবার

ফন্ট সাইজ:

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া, আমবাড়ীয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকা থেকে বনদস্যুদের হাতে অপহৃত ২১ জেলেকে গত ৭ দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জিম্মি জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন, তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন অপহৃত জেলেদের পরিবার ও মহাজনরা। কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সূত্র জানিয়েছে, অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। সুন্দরবনের আকাশে আধুনিক ড্রোন উড়িয়ে জেলে ও দস্যুদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নৌপথে কোস্ট গার্ডের একাধিক দল চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।

গত শুক্র ও শনিবার রাতে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারিকেলবাড়িয়া, আমবাড়ীয়া, ভদ্রা ও ভাঙ্গা এলাকা থেকে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা ২১ জেলেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সময় জেলেদের একটি ট্রলার, পাঁচটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামালও লুট করে নিয়ে যায় দস্যুরা। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপহৃত জেলেদের একাধিক মহাজন জানান, জেলেদের মুক্ত করতে তারা দস্যুদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তবে মুক্তিপণ হিসেবে কতো টাকা দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তা জানাতে রাজি হয়নি তারা। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম জানান, অপহৃত জেলেদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনে অবস্থানরত জেলেদের রাতে দলবদ্ধভাবে এবং সংশ্লিষ্ট বন অফিসের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব স্টেশন ও টহল ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের জেলেদের নিরাপত্তায় টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহাবুব হোসেন বললেন, ২১ জেলেকে উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। দস্যুদের অবস্থান শনাক্তে আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। সুন্দরবন খুলনা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ইমরান আহমেদ বলেন, জেলেদের উদ্ধারে সহযোগিতা করার জন্য কোস্ট গার্ড ও র‌্যাবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই জেলেদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।