কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ডাবল মার্ডারের ঘটনায় জনমনে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। পর পর দু’টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে— এমন মন্তব্য এখন সর্বসাধারণের। অপরদিকে, মাদক কারবার সংক্রান্ত ঘটনার জেরে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জানা গেছে, দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও সড়কির আঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয়পক্ষ প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটায় বলে স্থানীয়রা জানায়। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন চড়ইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত গোলাম মোস্তফা টেঙ্গুর একই গ্রামের মৃত দৈয়ব মণ্ডলের ছেলে। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে চড়ুইকুড়ি (মরার চর) এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় নিহতের স্বজনরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন।
নিহতের ভাই স্থানীয় বিএনপি নেতা পটলসহ স্বজনরা জানান, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল জানান, সীমান্তের চড়ইকুড়ি গ্রামে বিএনপি’র দুইপক্ষ আজা (আজাহার) মেম্বার ও পটল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে টেঙ্গুর নিহত হওয়ার ঘটনার জের ধরে আজা মেম্বারের বাড়িসহ তাদের অনেকের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে— এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজা মেম্বারসহ তার আত্মীয়স্বজনদের ১০টি গরু ও মোটরসাইকেলসহ লুট করার খবর পেয়েছি বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপরদিকে, অনলাইনে জুয়ায় হেরে রাজা বিশ্বাস (২৫) নামে এক যুবককে হত্যা করে তার বন্ধুরা। হত্যার পর নির্জন মাঠের মধ্যে ঘাস ও খড় দিয়ে ঢেকে রাখে নিহত যুবকের লাশ। বুধবার সকালে তার লাশ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠে একটি সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত যুবকের বন্ধু রিফাজ হোসেন (২৬)কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিফাজ উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে।
পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় বড় অঙ্কের টাকা হেরে আর্থিক সংকটে পড়ে রিফাজ। সেই টাকা জোগাড় করতে বন্ধু রাজাকে মাঠের ভেতর ডেকে নিয়ে হত্যা করে তার পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়। বন্ধুদের হাতে খুন হওয়া রাজা বিশ্বাস (২৫) একই এলাকার ইমাম আলীর ছেলে। পৃথক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, চরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা দাফন কাজ সম্পন্ন করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পৃথক হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হচ্ছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
