চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিজানুর রহমান (২১) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলি আদালতের বিচারক ইসমত আরা তুসির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে সক্ষম হয়েছি। খুনিকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। সে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হলে বিচারক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে সে মিজানুরকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। নিহত মিজানুর সদর উপজেলার চরঅনুপনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে। গত ৩০শে সেপ্টেম্বর সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার আসামি মো. শাহিন (২৪) একই গ্রামের মো. জুয়েলের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, মিজানুরের মা রুবেদা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামিদের নাম অজ্ঞাত উল্লেখ করা হয়। মামলা দায়েরের পর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মিজানের বন্ধু ও মাদকাসক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে শাহিন স্বীকার করে মিজান আর সে একসঙ্গে মাদকসেবন করতো। মাদকসেবন নিয়ে বিরোধের জেরে ২৯শে সেপ্টেম্বর রাতে পরিকল্পিতভাবে ধারালো ছুরির আঘাতে হত্যা করে পরে অনুপনগরের সেবা ইটভাটার পাশে রাস্তার উপর ফেলে রেখে যায়। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন জানান, নিহত এবং আসামি পরস্পর বন্ধু ছিল। প্রায় এক বছর থেকে তারা একসঙ্গে মাদকসেবন করতো। ঘটনার দুইদিন আগে মিজানকে হত্যার পরিকল্পনা করে শাহিন। ঘটনার রাতে কৌশলে মিজানকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। সেখানে ইয়াবা সেবনের একপর্যায়ে ধারালো ছুরির আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
