আপৎকালীন ডিজেল মজুত ছাড়ার কথা ভাবছে ইউরোপ, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করবে রাশিয়া

আপৎকালীন ডিজেল মজুত ছাড়ার কথা ভাবছে ইউরোপ, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করবে রাশিয়া

ফন্ট সাইজ:

ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ফ্রান্স ও জার্মানির ওপর চাপ সৃষ্টি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আগামী ২০ দিনের মধ্যে তারা জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই তীব্র চাপের মুখে নিজেদের কৌশলগত জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার সদস্যদেশগুলোর এক জরুরি ফোনালাপে ফ্রান্সের উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে ইউরোপ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর পক্ষ থেকে সমপরিমাণ অপরিশোধিত তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ না করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করছে ইউরোপের দেশগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ছাড়ার দাবি জানালেও ইউরোপ তাদের নিজস্ব আপৎকালীন সক্ষমতা বিবেচনা করে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্যমতে, ফ্রান্সে প্রস্তাবিত ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট জরুরি মজুতের প্রায় ১৭ শতাংশ এবং তাদের বার্ষিক ব্যবহারের প্রায় ৩ শতাংশের সমান।

এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেই রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডিজেল রপ্তানি বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হলেও তিনি জানান, অভ্যন্তরীণ চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলে রাশিয়া রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্ববাজারে দুই পক্ষের এমন আলোচনার খবরে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে কিছুটা দরপতন দেখা গেছে।