লালপুরে দরজা বন্ধ ও মোবাইল লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না

ফন্ট সাইজ:

গভীর রাত। মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চলছিল অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে জুয়া খেলা ও বেটিং পরিচালনা। তখনই নীরবে অভিযান চালায় লালপুর থানা পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় অনলাইন জুয়ায় জড়িত ৩ জন। লুকিয়ে ফেলে অনলাইন জুয়া ও বেটিং পরিচালনায় ব্যবহৃত তিনটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। দরজা খুলে তাদের আটক করে পুলিশ। পরে জব্দ করা হয় লুকিয়ে রাখা মোবাইল ফোনগুলো।

বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার মহারাজপুর মধ্যপাড়া ও চক বাদেকুলপাড়া গ্রামে পৃথক অভিযানে অনলাইন জুয়া ও বেটিং পরিচালনার অভিযোগে ৩ জন এবং ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে মহারাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামে অভিযান চালায় পুলিশ। উপস্থিতি টের পেয়ে ঘরের ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দেয় আরিফুল ইসলাম (৩৩), রাকিবুল ইসলাম (২৩) ও ইমন ইসলাম (২২)।

এ সময় তারা তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে লুকিয়ে রাখা মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করে। আটক আরিফুল ইসলাম মহারাজপুর মধ্যপাড়া গ্রামের ফরজ আলী মণ্ডলের ছেলে, রাকিবুল ইসলাম একই গ্রামের মোস্তাক আলীর ছেলে ও ইমন ইসলাম নবীনগর প্রথমপাড়া গ্রামের মারিফুল ইসলামের ছেলে।
এর আগে রাত সোয়া ১টার দিকে চক বাদেকুলপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং ও প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য ওবাইদুল ইসলাম (২২)কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দু’টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। লালপুর থানার এসআই মো. মনিরুল ইসলাম সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে পৃথক অভিযান দু’টি পরিচালনা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ মানবজমিনকে বলেন, অনলাইন জুয়ার ঘটনায় আটক তিনজনের বিরুদ্ধে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনে এবং ওবাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।