জেলা শহর মাইজদীর ১০টির বেশি হোটেল ও রেস্তরাঁয় প্রতিদিনের খাবার অপচয়ের হিসাব রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপচয়ের পরিমাণ ভোক্তাদের সামনে তুলে ধরা, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার অর্ডারে উৎসাহিত করা হয়। বৃহস্পতিবার খাদ্যক্ষয় ও অপচয়বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক খানি বাংলাদেশ ও পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান) যৌথভাবে সভাটির আয়োজন করে। সভায় বক্তারা বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অর্ডার, বেশি রান্না এবং অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ না করায় অপচয় বাড়ছে। কোনো কোনো হোটেলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি বা তারও বেশি খাবার নষ্ট হয়। অপচয় কমাতে ভোক্তা সচেতনতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও পরিমাণ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। নোয়াখালী জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে খাদ্য অপচয় রোধ সম্ভব নয়। শৈশব থেকেই খাবারের মূল্য ও অপচয় রোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, এনজিও বন্ধন’র ইডি আমিনুজ্জামান মিলন, প্রান’র কর্মসূচি সমন্বয় প্রধান উম্মে সালমা পপি, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান’র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুরে আলম সিদ্দিকী রনি, প্রথম আলো নোয়াখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহবুবুর রহমান, আরটিভি ও দৈনিক আগামীর সময়ের প্রতিনিধি গিয়াস উদ্দিন রনি।
আওয়ামী লীগ নেতাকে মুক্ত করতে বিএনপি নেতাদের প্রত্যয়নপত্র
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে স্থানীয় বিএনপি ও তাঁতী দলের নেতা প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পৃথক দু’টি প্রত্যয়নপত্রে ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপি’র সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং ফ্যাসিস্ট সরকার উৎখাতে সংগ্রামকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং দলের ভেতরেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। কারাবন্দি ওই নেতার নাম মুহাম্মদ রুহুল আমিন (রুবেল)। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক। তার বাড়ি বরাইদ ইউনিয়নের সাভার গ্রামে।
সাটুরিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা ও অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে গত ২২শে সেপ্টেম্বর পুলিশ রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রুহুল আমিনকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করতে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হামিদ, ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নান একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন। গত ২৪শে সেপ্টেম্বর দেয়া ওই প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘উক্ত ব্যক্তি এবং তার পরিবার পূর্ব থেকেই বিএনপি’র সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি ও তার পরিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সকল কার্যক্রমে আমাদের সহযোগিতা করেছেন। তিনি কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।’
এর আগের দিন উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন স্বাক্ষরিত অপর একটি প্রত্যয়নপত্রে একই ধরনের কথা উল্লেখ করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১০ই অক্টোবর দলীয় প্যাডে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ফজলুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত ঘোষিত কমিটিতে রুহুল আমিনকে বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদকের পদ দেয়া হয়। তিনি এখনো ওই পদেই বহাল রয়েছেন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী একজন নেতার পক্ষে বিএনপি’র শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের এমন প্রত্যয়নপত্র দেয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি’র একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপি’র এক নেতা বলেন, রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির পক্ষে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে এমন প্রত্যয়ন দেয়া কোনোভাবেই উচিত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যয়নপত্র দেয়ার বিষয়ে বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘প্রত্যয়নপত্র দেয়াটা ভুল হয়েছে। রুহুল আমিনের আওয়ামী লীগে পদ-পদবি আছে, তা আমার জানা ছিল না। প্রত্যয়নপত্র তুলে নেয়া হবে। জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নূরতাজ আলম বাহার বলেন, কোনো আসামির পক্ষে প্রত্যয়ন বা সুপারিশ দেয়া আর আদালতে তার অপরাধ প্রমাণিত বা অব্যাহতি পাওয়া এক বিষয় নয়। মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতের। এই ধরনের প্রত্যয়নপত্র আদালতের সিদ্ধান্তের কোনো বিকল্পও নয়।
