মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সাইবার অপরাধ মামলায় সরকারি গেজেটভুক্ত ‘জুলাইযোদ্ধা’, মৌলভীবাজার জেলা জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্সের কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি কর্মী বাবুল আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে শহরের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাবুল আহমদের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার পরিবার, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাবুলের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল থানার একদল পুলিশ তাদের বাসায় যায়। পুলিশ সদস্যরা ওসি ডেকেছেন জানিয়ে বাবুলকে সঙ্গে যেতে বলেন। এ সময় হৃদরোগে আক্রান্ত বাবুল তার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে সকালে নিজে থেকেই থানায় যাওয়ার কথা বলেন। তবে পুলিশ তাকে জোর করে নিয়ে যায়। আনোয়ারা বেগম আরও বলেন, ‘থানায় নেয়ার পর বাবুলকে লকআপে রাখা হয়। মাঝরাতে সন্তানদের নিয়ে রাত ৩টা পর্যন্ত থানার সামনে অবস্থান করলেও গ্রেপ্তারের কারণ বা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। পরে খবর পেয়েছি তাকে মৌলভীবাজার সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।’ স্বামীর মুক্তি দাবি করে আনোয়ারা বেগম বলেন, তার স্বামী নির্দোষ। বিগত সরকারের সময়ও বাবুল আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন এবং কারাভোগ করেছেন। এখন কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো— তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। এদিকে বাবুলের গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে তার গ্রেপ্তারের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং মুক্তির দাবি জানান। মৌলভীবাজার জেলা জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুস সালাম তালুকদার বলেন, বাবুল একজন প্রতিবাদী মানুষ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় তার নিজ দলের লোকজনই তার পেছনে লেগেছে বলে আমরা মনে করি। একজন জুলাইযোদ্ধাকে রাতের বেলা থানায় নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসন আগের মতোই আচরণ করছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ সার্কেল) মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মামলায় বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে তাকে মৌলভীবাজার সদর থানায় রাখার বিষয়ে আমার জানা নেই।’
