প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের অভিযোগ

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল পরিশোধের অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ আফজাল রোডের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে। অথচ দীর্ঘ ৭-৮ মাসেও শেষ হয়নি সড়কটির নির্মাণকাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রতিদিনই সড়কটিতে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সড়কের বিভিন্নস্থানে পানি জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যানবাহন ও পথচারীদের। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

এ ছাড়া একই সড়কের পশ্চিম পাশে একটি ড্রেন করা হয়, সেই ড্রেনের কাজেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। সরজমিন দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে যে ভবনগুলো হয়েছে সাব ঠিকাদার ভবন মালিকদের থেকে টাকা নিয়ে আঁকাবাঁকা করে ড্রেন করেছে এবং প্রায় ভবনের টয়লেটের সরাসরি লাইন ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ করে দিয়েছে। এতে করে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও তা নির্ধারিত সময়ে শেষ করা হয়নি। অন্যদিকে, কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্মাণকাজের ধীরগতি ও সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের পরে ১নং ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় আরও ১৫০ মিটার সড়কেরও বেহাল অবস্থা। লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগের) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুন্নাহার লাইলীর পিএস মামুন (হয়রানি মামুন) এবং লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনসহ একটি সিন্ডিকেট লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগকে কব্জা করে রেখেছে। প্রতি বৃহস্পতিবার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম মামুনের গাড়িতে করে ঢাকায় যায়। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দলের হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তিনিও চন্দ্রগঞ্জ আফজাল রোডের ১নং ব্রিজের কাজে অনেক অনিয়ম করেছেন। কোনোভাবে ব্রিজের কাজ শেষ করলেও ব্রিজের দুইপাশে ১০ মিটার করে সংযোগ সড়ক করার কথা থাকলেও তিনি সেটা করেননি। এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন বলেন, কাজ তো আমরা ঠিকভাবেই করেছি। দুইপাশে যে সংযোগ সড়ক করার কথা সেটাও করা হয়েছে। তারপরেও আমি সরজমিন বিষয়টি দেখবো। চন্দ্রগঞ্জ আফজাল রোড টু চাটখিল সড়কের ১৫০ মিটার কাজের টেন্ডার পায় রেভার্সি প্রাইভেট লি. নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে কাজ শুরুর দিকে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এডভোকেট শাহিন আলম কাজটি করাচ্ছেন। লক্ষ্মীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এডভোকেট শাহিন আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অগ্রিম টাকা উত্তোলনের বিষয়ে কিছু জানি না। আর এটি আমার কাজ না, কেউ হয়তো আমার নাম বিক্রি করছে। সড়কটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে তার কার্যালয়ে চায়ের দাওয়াত দেন। তবে সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি, নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পূর্ণ বিল পরিশোধের অভিযোগ এবং জনদুর্ভোগের বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য করেননি, বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।