ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৩ জন ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। এই মাসের সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ৪৯৭ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিনগুণের বেশি বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বুধবার পর্যন্ত জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৭৪৩ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২৯ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১৬ জন, দাগনভূঞাতে ৩ ও সোনাগাজীতে ১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১৪৫ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। বছরের ৯ মাসে মোট শনাক্তকৃত ৭৪৩ জন শনাক্তের মধ্যে ৫৪৪ জন সদর উপজেলার। এ ছাড়া দাগনভূঞায় ৫৭, সোনাগাজীতে ৬০, ছাগলনাইয়ায় ৪০, পরশুরামে ২৬ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫২৩ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৮০ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন, সোনাগাজীতে ১ জন, দাগনভূঞায় ৩ জন এবং পরশুরামে ৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন শুধু শহরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রোগ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও মশক নিধন কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. রোকন উদ দ্দৌলা জানান, এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর ব্যাপক ভিড়, তার উপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এ সময় সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ড. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৭ হাজার ২০৮টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে।
