আজ শচীন দেব বর্মণের জন্মজয়ন্তী

আজ শচীন দেব বর্মণের জন্মজয়ন্তী

ফন্ট সাইজ:

প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব শচীন দেব বর্মণের জন্মজয়ন্তী আজ। সংগীতাঙ্গনে ‘এস ডি বর্মণ’ বা পরম শ্রদ্ধায় ‘শচীন কর্তা’ নামে সর্বজনবিদিত এই সুরসাধক ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার মাটিতে জন্মগ্রহণ করেন। ‘শোনো গো দখিনো হাওয়া’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’ কিংবা ‘বর্ণে গন্ধে ছন্দে’—তার সৃষ্টি করা এসব কালজয়ী সুর যুগ যুগ ধরে কোটি শ্রোতার হৃদয়ে আলোড়ন তুলে আসছে। শচীন কর্তার পিতা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণ ছিলেন নামকরা সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী এবং মা নিরুপমা দেবী ছিলেন মণিপুরি রাজবংশের কন্যা। ত্রিপুরার বিখ্যাত চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশব কাটে সুরের গভীর আবহাওয়ায়। কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্নের পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই সুগায়ক হিসেবে খ্যাতি পান তিনি। ১৯৩৪ সালে সর্বভারতীয় সংগীত সম্মেলনে গান পরিবেশন করে ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁসহ তৎকালীন প্রবীণ সংগীতজ্ঞদের বিমোহিত করেন। পরবর্তীতে কবি জসীমউদ্দীনের কথায় তার গাওয়া ‘নিশিথে যাইয়ো ফুলবনে’ গানটি শ্রোতাপ্রিয়তার নতুন রেকর্ড গড়ে। চলচ্চিত্র সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করতে ১৯৪০-এর দশকে বোম্বে পাড়ি জমান শচীন কর্তা। সেখানে ‘মাটির ঘর’, ‘তেরে ঘর কে সামনে’, ‘মিস ইন্ডিয়া’ ও ‘প্রেম পূজারি’র মতো অজস্র চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে ইতিহাস গড়েন। লতা মঙ্গেশকর, মোহাম্মদ রফি, আশা ভোসলে, মান্না দে, গীতা দত্ত ও তালাত মাহমুদের মতো কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পীরা তাঁর সুরের জাদুতে নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করেন। সংগীতভুবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’, ‘সংগীত নাটক একাডেমি অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘ফিল্মফেয়ার সেরা সংগীত পরিচালক’সহ দেশ-বিদেশের বহু মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি। সুরের অলৌকিক ভুবনকে ঋদ্ধ করে ১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর বিদায় নেন এই কালজয়ী সুরস্রষ্টা।