সুইজারল্যান্ডে হিমবাহের বরফ গলছে তীব্র গতিতে, পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

সুইজারল্যান্ডে হিমবাহের বরফ গলছে তীব্র গতিতে, পানি সংকটে পড়বে ইউরোপ

ফন্ট সাইজ:

তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৬ সালে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহগুলোতে বরফ গলছে তীব্র গতিতে। হিমবাহ গলার এই গতি সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১২ মাসেই দেশটির মোট হিমবাহের সাড়ে ৫ শতাংশেরও বেশি বরফ পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলার এই গতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। ফলে আগামী দশকগুলোতে ইউরোপের কৃষি, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নৌপরিবহনে ব্যবহারের উপযোগী সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হতে পারে। এ খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।

সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিং নেটওয়ার্কের নতুন তথ্য অনুযায়ী, শীতকালে কম তুষারপাতের পর মে ও জুন মাসের আগাম তাপদাহের কবলে পড়ে হিমবাহগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়ে। টাটকা তুষারের তুলনায় খালি বরফ সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করায় পরবর্তী সময়ে বরফ গলার গতি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। মাত্র কয়েক বছর আগেও আল্পস অঞ্চলে বছরে ২ শতাংশ বরফ ক্ষয়কে ‘চরম’ মাত্রার গণ্য করা হতো। কিন্তু এবার তা ৫.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সুইস গ্লেসিয়ার মনিটরিংয়ের পরিচালক ড. ম্যাথিয়াস হাস একে ‘বিপর্যয়কর’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিজ্ঞানীরা জানান, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সুইস হিমবাহগুলো থেকে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি লিটার বরফগলা পানি নিঃসরিত হয়েছে। এই গলিত পানি চলতি মৌসুমে পানির সংকট সাময়িক মেটাতে সহায়তা করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইউরোপের পানির মজুতকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। হাস সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহে যে পানি গলে যাচ্ছে, তা মূলত শত শত বছর ধরে সঞ্চিত থাকা প্রাচীন পানির ভাণ্ডার। হিমবাহ সংকুচিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যতে খরা দেখা দিলে এই পানির সরবরাহ আর অবশিষ্ট থাকবে না। ইতিমধ্যেই পানিস্তর রেকর্ড নিচে নেমে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে তিন হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোতেও গ্রীষ্মের শেষে কোনো তাজা তুষার টিকে থাকেনি। সাধারণত এই উচ্চতায় কয়েক মিটার পুরু শীতকালীন তুষার থাকার কথা। যা পরে জমাট বেঁধে নতুন বরফে পরিণত হতো। কিন্তু সেখানে চার মিটার পর্যন্ত বরফ হারিয়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ফ্রিজ থেকে বের করে রাখা বরফের খণ্ডের মতো মানুষের চোখের সামনেই নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে আল্পসের চিরচেনা হিমবাহগুলো। এই সংকট ইউরোপ ছাড়িয়ে বৈশ্বিক রূপ ধারণ করার আগেই জীবাশ্ম জ্বালানি দূষণ কমিয়ে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।