জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদন ফি একলাফে ২০ গুণ বাড়িয়েছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়মে এই ফি ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ ইয়েন (প্রায় ১,২৭০ মার্কিন ডলার) করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে আয়, পেনশন এবং জাপানি ভাষার দক্ষতার মতো বেশ কিছু ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
কেবল স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রেই নয়, সাধারণ বসবাসের মেয়াদ বাড়ানো বা রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও আগের নির্ধারিত ৬ হাজার ইয়েনের পরিবর্তে অবস্থানের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ১০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার ইয়েন পর্যন্ত নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত জুলাই মাসেও ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সব ধরনের ভিসার ফি পাঁচ গুণ বাড়িয়েছিল দেশটি।
নতুন নীতি অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের অবশ্যই জাপানিদের জাতীয় গড় আয়ের সমপরিমাণ বা তার চেয়ে বেশি নিয়মিত আয় থাকতে হবে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী যা বার্ষিক প্রায় ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন। এছাড়া আগামী বছরের এপ্রিল থেকে জাপানি ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা অর্জন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং অন্তত ৩০ বছরের সমমানের কর্মী পেনশন ব্যবস্থার সমপরিমাণ সুরক্ষার প্রমাণ প্রদর্শন করতে হবে।
বার্ধক্যের কারণে তীব্র শ্রমিক সংকটে পড়ায় জাপান বিদেশি কর্মীদের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়লেও বিষয়টি দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৪১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা স্থানীয় সমাজে কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানিয়েছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নাগরিকদের উদ্বেগ দূর করতে এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই এসব কড়াকড়ি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে বিদেশি প্রবাসীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অতিরিক্ত ফি ও বাড়তি আয়ের শর্ত চাপিয়ে দিয়ে দক্ষ পেশাজীবীদের জাপানে আসার পথ আরও কঠিন করে তোলা হচ্ছে।
বিদেশিদের জন্য স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণ বাড়াল জাপান
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
২ ঘন্টা আগে
১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১২ঃ৪৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
