হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তাছাড়া হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে সাম্প্রতিক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
হিস্পানিক হেরিটেজ মাস উদ্যাপন উপলক্ষে দেয়া এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর আমাদের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আসলে গত তিন দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিজয় হবে।
ওদিকে, হরমুজ প্রণালি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানিয়েছে। ইরনা জানিয়েছে, বিশ্ব নৌ দিবস উপলক্ষে দেয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেছেন, পারস্য উপসাগর ও এর জলপথে টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানের জন্য সমুদ্র কেবল বিশাল জলরাশি নয়; এটি সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ এবং দেশটির ইতিহাস, পরিচয় ও জীবনের অংশ। একই সঙ্গে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান আরও বলেছেন, নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে আলাদা করা যায় না। সমুদ্র নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহনপথ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করে। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক জলপথে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামুদ্রিক পরিবহন ও বাণিজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। এ ক্ষেত্রে দেশটির নৌবাহিনী এবং সামুদ্রিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সবার সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করছে ইরান। ওদিকে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেনারেল তালাই-নিক বলেছেন, নিজেদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি তেহরান শান্তি চায়। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আরও বলেছেন, ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা হলে চলমান সংঘাত অবসানের পথ তৈরি হতে পারে।