এক বছর আগে শিবির থেকে বহিষ্কার হন আম্মার, প্রকাশ্যে তিন চিঠি

এক বছর আগে শিবির থেকে বহিষ্কার হন আম্মার, প্রকাশ্যে তিন চিঠি

ফন্ট সাইজ:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথি পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। শিবিরের বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠিতে তার পদ স্থগিত ও পরবর্তীকালে বাতিলের তথ্য পাওয়া গেছে।

গত বুধবার বিকেলে রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সীর একটি ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে এই প্রতিবেদকের হাতে শিবিরের তিনটি চিঠি এসেছে।

প্রথম চিঠিটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির। তৎকালীন রাবি শিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথি সালাউদ্দীন আম্মার কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। যা দেশের প্রথম সারির প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন ও রিপোর্টের মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। তাছাড়াও বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্ল্যাটফরম থেকে তার নৈতিক পদস্থলনজনিত কয়েকটি অভিযোগ আসে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত অভিযোগসমূহ গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে শাখার মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সালাউদ্দীন আম্মারের নৈতিক পদস্থলনের অভিযোগ আমলে নেয়া হয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সালাউদ্দীন আম্মারের সাথি পদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেক চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাথি সালাহউদ্দীন আম্মার কর্তৃক দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বহির্ভূত কর্মকাণ্ড করা এবং বারবার সংশোধনী দেয়া সত্ত্বেও সংশোধন না হওয়াতে মুহতারাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ভাই তার সাথি পদ বাতিল করেছেন।
এদিকে ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত তৃতীয় চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, আপনারা নিশ্চই অবগত আছেন নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, মেয়েদের সাথে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন এবং সম্পদের তছরুপ, সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পরিপন্থি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে রাবি শাখার সাথি সালাউদ্দীন আম্মারের সাথিপদ মূলতবি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ফেব্রুয়ারি ২০২৫ মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সেপ্টেম্বর-২৫ মাসিক সেক্রেটারিয়েট মিটিংয়ে তার সাথি পদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বর্তমানে তার কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার ফলে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তার নিয়মিত উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় তার অনলাইন এবং অফলাইন কর্মকাণ্ডে পজিটিভ এবং নেগেটিভ কোনো মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া দেখানো থেকে বিরত থাকা। শুধু রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলরা তার সঙ্গে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখবেন। তাছাড়া সকল স্তরের জনশক্তির যোগাযোগ বিছিন্ন করার অনুরোধ করা হচ্ছে।
রাবি শিবিরের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক আহমেদ মুন্সী ফেসবুক পোস্টে আম্মারের উদ্দেশে লিখেছেন, জামায়াত নেতা অর্থায়ন করলে শিবিরের মাধ্যমেই করবে এটাই স্বাভাবিক। বহিষ্কৃত কোনো জনশক্তির সাথে শিবির-জামায়াত কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখে না। এটাই জামায়াত শিবিরের সাংগঠনিক ঐতিহ্য।
ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, 'এখন কথা হলো জামায়াত নেতা খালিদুজ্জামান কি জানে তুমি শিবির থেকে বহিষ্কৃত নাকি রানিং শিবির পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করো সেইটা ক্লিয়ার করো।
এ বিষয়ে জানতে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমি শিবিরের ক্রাইটেরিয়াতে পড়তে পারি। কারণ আমি ডানপন্থি সংস্কৃতি চর্চার করি। আমি কলরবের সাথেও কাজ করেছি। শিবির আমার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছে, কিন্তু একটা প্রমাণও আনেনি। শুধু এলিগেশন। আমি আজ আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বললাম! আমি আজ পর্যন্ত কোনোদিন আনিত অভিযোগগুলোর কোনোটার সাথেই সম্পৃক্ত না।
চিঠির সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের বর্তমান সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, চিঠিটি সত্য এবং ২০২৫ সালেই তাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়।