অস্ট্রেলিয়ায় ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডে পেমেন্টের সময় অতিরিক্ত মাশুল বা ‘সারচার্জ’ নেওয়া নিষিদ্ধ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন এই নিয়ম। ফলে নির্দিষ্ট কার্ডে লেনদেনের সময় পণ্যের ঘোষিত মূল্যের সঙ্গে আলাদা করে ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের ফি যোগ করতে পারবে না ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
নতুন বিধানের আওতায় রয়েছে ইএফটিপিওএস (EFTPOS), ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড। একই দিন আমেরিকান এক্সপ্রেস ও ইউনিয়নপেও সারচার্জ তুলে নিচ্ছে। পেপালের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে ৫ অক্টোবর থেকে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার কার্ড পেমেন্ট খরচ ও সারচার্জ নিয়ে পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিলে মূল্য প্রদর্শন আরও স্বচ্ছ হবে এবং পেমেন্ট ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা বাড়বে। অর্থাৎ কোনো পণ্যের মূল্য ১০০ ডলার উল্লেখ থাকলে কার্ডে অর্থ পরিশোধের সময় অতিরিক্ত কার্ড ফি যোগ করার সুযোগ থাকবে না। তবে সব ধরনের বাড়তি ফি নিষিদ্ধ হচ্ছে না। বৈধ বুকিং ফি, সার্ভিস চার্জ, ডেলিভারি ফি কিংবা সপ্তাহান্ত ও সরকারি ছুটির দিনের হসপিটালিটি সারচার্জ বহাল থাকবে। নিষেধাজ্ঞাটি শুধু কার্ড ব্যবহারের কারণে আরোপ করা অতিরিক্ত মাশুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অনলাইন কেনাকাটাতেও একই বিধান কার্যকর হবে। ওয়েবসাইট, অ্যাপ কিংবা ডিজিটাল চেকআউটের মাধ্যমে ভিসা, মাস্টারকার্ড বা ইএফটিপিওএস ব্যবহার করলেও আলাদা কার্ড সারচার্জ নেওয়া যাবে না।
সারচার্জ উঠে গেলেই পণ্য বা সেবার দাম কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কার্ড পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণের ব্যয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বহন করতে হবে। তারা চাইলে সেই খরচ পণ্যের সামগ্রিক মূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে। ফলে কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পেমেন্ট পদ্ধতি গ্রহণ করবে, তা নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারবে। একইভাবে আইন মেনে কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম লেনদেনের সীমাও রাখা যেতে পারে। আবার নগদ অর্থ বা পে-আইডির মতো বিকল্প পদ্ধতিতে পেমেন্ট করলে ছাড় দেওয়ার সুযোগও থাকবে। কার্ড ব্যবহারের জন্য সারচার্জ নেওয়া হচ্ছে বলে মনে হলে প্রথমে ফি-টির কারণ জানতে হবে। এটি যদি কার্ড পেমেন্টের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত মাশুল হয়, তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তা প্রত্যাহার বা ফেরতের অনুরোধ করা যাবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কার্ড নেটওয়ার্ক, পেমেন্ট সেবাদাতা কিংবা অস্ট্রেলিয়ান কম্পিটিশন অ্যান্ড কনজিউমার কমিশনে অভিযোগ করা যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় বলেন, কার্ডে পেমেন্ট করবেন? আজ থেকে আপনার সকালের কফি হয়তো আরও সস্তা হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রতিদিন লাখ লাখ অস্ট্রেলিয়ান কার্ডে অর্থ পরিশোধ করেন এবং ‘ট্যাপ’ করে পেমেন্টের সময় তাদের অতিরিক্ত সারচার্জ দিতে হয়। এভাবে বছরে অস্ট্রেলিয়ানদের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। আজ থেকে সেই বাড়তি মাশুল নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ক্যাফে, সুপারমার্কেট কিংবা বিল পরিশোধ—যেখানেই কার্ডে অর্থ দেওয়া হোক, ভোক্তারা যে দামটি দেখবেন, তাদের ঠিক সেই দামই পরিশোধ করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ায় আজ থেকে কার্ড ব্যবহারে সারচার্জ নিষিদ্ধ
আলমগীর হোসেন রুহেল, সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে
অনলাইন
৫২ মিনিট আগে
১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১০ঃ২১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
