মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রেজাউল করিম নাঈমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডে এবং ৫ জনকে খালাস প্রদান করেছেন আদালত। বুধবার সকালে এই আলোচিত মামলার রায় দেন দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল।
রায়ে বলা হয়, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। মামলার বাদী ছিলেন নাঈমের বাবা মো. চেরাগ আলী। মামলায় আসামি ৯ জন। এর মধ্যে ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ে আরও বলা হয়, দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩, ৩০২ ও ৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ প্রমাণিত না হওয়ায় ৫ জনকে খালাস প্রদান করা হলো। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি, সাকির আহমদ শাকিল, আল আমিন ও ইমন মিয়া (পলাতক)।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসে
আসামি নুরুল ইসলাম ও অন্যান্যরা। এ সময় নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করে তারা। চাঁদার পাশাপাশি নাঈমের ওপর ফেসবুকে অপপ্রচারের মিথ্যা অভিযোগ আনে। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে আসামিরা। নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার দু’দিন পর ৯ নভেম্বর নিহত নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া, মা সামছুন নাহার ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।’ এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা। তারা বলেন, পলাতক আসামি ও তাদের স্বজনরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি অব্যাহত রেখেছে।
