পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না ভারতকে: তারার

পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না ভারতকে: তারার

ফন্ট সাইজ:

ভারতকে ‘অস্ত্র হিসেবে পানিকে ব্যবহার’ করতে দেবে না পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বুধবার বলেন, সিন্ধুর পানি চুক্তি একতরফাভাবে পরিবর্তন, বাতিল কিংবা স্থগিত রাখা কোনো পক্ষের পক্ষেই সম্ভব নয়। ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেয়ার সময় তারার এসব কথা বলেন। ভারতের চুক্তি সংক্রান্ত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তারার বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ভারতের অবস্থানকে ‘আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং যদি বলতে হয় নৈতিকভাবে দেউলিয়াত্ব ও নৈতিকতাশূন্য’ ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। তারার আরও বলেন, এই চুক্তি একতরফাভাবে পরিবর্তন, বাতিল, প্রত্যাহার কিংবা স্থগিত রাখা কোনোটিই করা যায় না। কোনো বিরোধ দেখা দিলেও উভয় পক্ষকেই চুক্তির শর্ত ও বিধান মেনে চলতে হবে।

২০২৫ সালের আগস্টে কোর্ট অব আরবিট্রেশনের দেয়া সিদ্ধান্তের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছে এবং এই যুক্তিকে বৈধতা ও শক্তি দিয়েছে যে চুক্তিটির অবস্থান পরিবর্তনের জন্য একতরফাভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া যায় না। পাকিস্তান বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছে এবং নিজেদের আইনি ও কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও জানান তিনি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দেয়া ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তারার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, সিন্ধু নদীর পানি আমাদের জনগণ ও আমাদের অঞ্চলের জীবনধারা। এই অধিকার কেড়ে নেয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান ‘সম্পূর্ণ পরিষ্কার’। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি উপকরণ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত তার বেআইনি কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি দেখাতে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি আরও বলেন, কয়েক দশকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান ১ লাখ মানুষের প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

সিন্ধু পানি চুক্তিকে ঘিরে ‘পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ এবং বিতর্ক তৈরির প্রচেষ্টাকে তিনি ‘অত্যন্ত নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, আইনি, কূটনৈতিক কিংবা নৈতিক কোনো দৃষ্টিকোণ থেকেই এর যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি দেশ পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করেছে। আন্তর্জাতিক আইনি ফোরামগুলোও চুক্তি পরিবর্তন ও বাতিলের বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে।