অবিশ্বাস্য দৃশ্য দেখা গেছে ইন্দোনেশিয়ার একটি কারাগারে। সাধারণ বন্দিশালার আড়ালে বিশেষভাবে কিছু কয়েদিদের জন্য দেয়া হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, জিমনেসিয়াম, বড় পর্দার টিভি এমনকি গলফ খেলার আধুনিক সিমুলেটর সহ অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার নিকটবর্তী সিবিনং কারাগারে এক ঝটিকা পরিদর্শন করে কর্তৃপক্ষ। এতে ১০টি বিলাসবহুল আবাসিক ইউনিটের সন্ধান পায় তারা। এরপর শুরু হয় তোলপাড়। ঘুষের বিনিময়ে বন্দিদের বিশেষ এই সুবিধা পাইয়ে দেয়ার অভিযোগে জেল সুপারসহ অন্তত পাঁচজন কারা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতি তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ খবর প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)।
ইন্দোনেশিয়ার অম্বাডসম্যান অফিসের এক আকস্মিক পরিদর্শনে সাধারণ সেলের বাইরে আলাদা এই বহুতল কমপ্লেক্সের খোঁজ মেলে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক হোটেলের স্যুইট বা অভিজাত ভিলার মতো সাজানো ফ্ল্যাটগুলোতে বন্দিরা আরাম-আয়েশে অবস্থান করছেন। প্রতিটি ইউনিটে এসি, রেফ্রিজারেটর, সোফাসেট এবং জিমের সরঞ্জাম ছাড়াও বাইরে দামি গাড়ি পার্ক করা ছিল। এমনকি পরিদর্শকদের প্রবেশ আটকাতে একটি ইউনিটের দরজা ভেতর থেকে বন্দি নিজেই লক করে দেয়।
এছাড়া কারাগারের মূল ফটক এড়িয়ে পেছনের একটি খোলা পথ দিয়ে গোপনে সেখানে অবাধে যাতায়াতের সুযোগও করে দেওয়া হয়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার কারাগারগুলোতে প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজদের এমন রাজকীয় সুবিধা নেওয়ার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতীতে ২০১০ সালে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে সাজাপ্রাপ্ত এক নারী বন্দির জন্য সেলে লেজার বিউটি পার্লার বসানো কিংবা বাড়তি অর্থের বিনিময়ে বন্দিদের হাতে কারাগারের চাবি তুলে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলেও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণেই এমন দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না।
