দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমান সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সতর্কতায় বুধবার তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে। এর আগে সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকার সময় বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায়। এ ঘটনায় ইসরাইলে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটটি দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বিমানটি আন্তর্জাতিক জরুরি সংকেত ৭৭০০ পাঠায়। এই সংকেতটি সাধারণত বিমানে গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয় এবং কিছু প্রতিবেদনে এটিকে ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে টাইমস অব ইসরাইল বুধবারের এক আপডেটে জানিয়েছে, বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল, এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়া হয়েছে। পরে বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে সহিংস বাগ্বিতণ্ডার সময় বিমানে জরুরি সংকেত সক্রিয় করা হয়। তবে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন এবং জরুরি সংকেত পাঠানোর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে ফ্লাইটটি জরুরি সংকেত পরিবর্তন করে ৭৫০০ করে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এই সংকেতটি বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপের ঘটনা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪ এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে দুবাই বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর ফ্লাইটটির গতিপথ ও সময়ের ধারাবাহিকতা তুলে ধরেছে। হারেৎজ জানিয়েছে, বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন ইসরাইলি যাত্রী ছিল।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সতর্কতা জারির পর ইসরাইলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটির উচ্চতা ১৭ হাজার ৪০০ ফুট কমে যায়। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। সেখান থেকে মাত্র দুই মিনিটে এটি প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটির নির্ধারিত রুট ছিল দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। ফ্লাইট-ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুবাই ও তেল আবিবের মধ্যে ফ্লাইদুবাইয়ের এই রুটটি নিয়মিত পরিচালিত হয়ে থাকে।
