চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আজ বুধবার নবম দিনে গড়িয়েছে। টানা কর্মসূচির পরও দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আজ দুপুরে চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এ অবস্থায় দাবি বিবেচনার পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে পরিচয়পত্র এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ছবি সংবলিত মুখোশ হাতে নিয়ে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আন্দোলনকে রাজনৈতিক বা বহিরাগতদের কর্মসূচি হিসেবে প্রচারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে এ কর্মসূচি পালন করেন বলে জানান। পরে শহীদ মিনার চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত বার্তা পাঠ করেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা। তিনি দাবি করেন, চুয়েটের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনে রয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দাবি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন। এর মধ্যে প্রধান ফটকে গণঅবস্থান, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, স্মারকলিপি প্রদান, মশাল মিছিল, গ্রাফিতি অঙ্কন ও মুখোশ মিছিল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত কিংবা হানাহানি চাই না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করতে চাই।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর সাড়া না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার রাতে হুমকি ও ভয়ভীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পিএমই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব হুমকিতে আন্দোলন দমানো যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে শিক্ষক সমিতির অভ্যন্তরীণ সভার খণ্ডিত অডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগে নিন্দা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার জরুরি সভার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে শিক্ষক সমিতির সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন অসঙ্গত ও অনভিপ্রেত বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার গতি সচল করাই তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যাতে আর একদিনের জন্যও ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিগগির সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের নীরবতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আজ বুধবার দুপুর দেড়টায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করবেন তারা।
চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এর আগে ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
