অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এই দুজনের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
বরখাস্ত দুজন হলেন—ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান ও গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মেহেদী হাসান ডিএমপির (ট্রাফিক-দক্ষিণ) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্থায়ী–বর্তমান ঠিকানাসহ ই–মেইলে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কর্মস্থলে হাজির হননি। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুসারে ‘পলায়ন’–এর আওতাভুক্ত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পলায়নের অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অপর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রহমত উল্লাহ চৌধুরী গাজীপুরে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এ কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসক তাকে দুই মাসের বিশ্রামের পরামর্শ দেন। বিশ্রাম শেষে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল তার কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু তিনি যোগদান করেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য তাঁর স্থায়ী–অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ জারি করা হয়। তবে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থল থেকে যান। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে চরম অবহেলা, অসদাচরণ ও পলায়নের আওতাভুক্ত, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিধি অনুসারে, অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। সূত্র: বাসস
