জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নতুন যাত্রা ও অর্জনের বার্তা

জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: নতুন যাত্রা ও অর্জনের বার্তা

ফন্ট সাইজ:

গত ২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেন। পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন, যার মধ্যে ছিল ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, জাতিসংঘ-সংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, অভিবাসন, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগ করে ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন সফর এবং আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরার প্রথম বড় সুযোগ। ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন এবং ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত স্বাগত প্রাতরাশে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং পরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে যুক্ত হন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের নৈশভোজেও তিনি অংশ নেন। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলায় ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণের কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও উন্নয়নযাত্রা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন এবং প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার। তিনি বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’—অর্থাৎ পুনরুদ্ধার, পুনঃস্থাপন ও পুনর্গঠন—এই তিন ‘আর’ কৌশলের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বহুপাক্ষিকতাকে শক্তিশালী করা এবং সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

রোহিঙ্গা সংকট ছিল তাঁর ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই সংকটটির স্থায়ী সমাধানের পথ। তিনি উল্লেখ করেন, নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে এবং এর ফলে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কার্যকর ও দৃঢ় সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংকটের উৎস যেহেতু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে উল্লেখ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে দেশটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জলবায়ু ন্যায়বিচার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি ও আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। জলবায়ু পরিবর্তনকে কেবল পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে নয়, বরং উন্নয়ন, অর্থনীতি, খাদ্য ও পানি নিরাপত্তা এবং মানবিক নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসংক্রান্ত আলোচনাতেও বাংলাদেশের ঝুঁকি ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বহুপাক্ষিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেন এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সদস্যদের পাশাপাশি নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ও শান্তি-প্রতিষ্ঠায় দেশের অবদান আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেন।
ফিলিস্তিন প্রশ্নেও বাংলাদেশ তার ঐতিহ্যগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনরায় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমতা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এ অবস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সংঘাত ও মানবিক সংকটের ক্ষেত্রে একটি নীতিনির্ভর বহুপাক্ষিক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সফরের সামগ্রিক কর্মসূচিতে ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছিল বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতি ছিল সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। নিউইয়র্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রিটে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত দেশ হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী, উদ্যোক্তা, উৎপাদন খাত ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, জনশক্তি রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাঁর বিভিন্ন বৈঠকের আলোচনায় স্থান পায়।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নও সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয় আলোচিত হয়। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম শক্তি হিসেবে ব্যবহার করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততাও সফরের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্বাগত কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে প্রবাসী ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আসে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা। বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয় আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য, জলবায়ু, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের আলোচনা বাস্তব প্রকল্প, অর্থায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতায় কতটা রূপ নেয়, তা পরবর্তী পর্যায়ের বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

সব মিলিয়ে এবারের জাতিসংঘ সফরটি বাংলাদেশের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় একই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও উন্নয়ন পুনর্গঠনের জন্য তিন ‘আর’ কৌশল তুলে ধরেছেন, অন্যদিকে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও নিরাপত্তা, ফিলিস্তিন, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বৈশ্বিক ও জাতীয় অগ্রাধিকারগুলো সামনে এনেছেন। তাঁর পাঁচ দিনের সফরে ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি এবং ১১টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি বিস্তৃত পরিসর তৈরি করেছে।

তবে একটি সফরের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারিত হয় পরবর্তী বাস্তবায়নের মাধ্যমে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু অর্থায়ন, বিদেশি বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে হলে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রশাসনিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পর এখন মূল বিষয় হবে এসব অঙ্গীকার ও কূটনৈতিক উদ্যোগকে কীভাবে বাস্তব কর্মসূচি, বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দেশের মানুষের জন্য দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেওয়া যায়।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবারের জাতিসংঘ সফরকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা যায়—যেখানে দেশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, বৈশ্বিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক কূটনীতি, জলবায়ু ন্যায়বিচার, মানবিক সংকটের সমাধান এবং শান্তিপূর্ণ বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশের অবস্থান একই সঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। এখন এই বার্তাগুলোর ধারাবাহিকতা এবং বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে নিউইয়র্কের বিশ্বমঞ্চে উচ্চারিত অঙ্গীকারগুলো বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থে কতটা কার্যকর রূপ পায়।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর জিওইন্টেলিজেন্স পলিসি সাপোর্ট।