ফিফা প্রীতি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বড় জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। ঘরের মাঠে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে একবার এগিয়েও যায় সকারুজরা। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা। তবে ম্যাচে বড় ধাক্কা খেয়েছে ব্রাজিল। ডান পায়ে চোটের কারণে হাফটাইমেই উঠে যেতে হয়েছে আক্রমণভাগের প্রানভোমরা রাফিনহাকে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনের সানকর্প স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করেন এক অবিশ্বাস্য ও রোমাঞ্চকর ম্যাচ। ৫২,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে এটি ব্রিসবেনে সর্বকালের সর্বোচ্চ ফুটবল দর্শক সমাগমের রেকর্ড গড়ে। তবে ম্যাচ শেষে ক্রীড়াপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক রাফিনিয়ার চোট শঙ্কা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ডান উরুর চোটের কারণে বিরতির পরই মাঠ ছাড়েন বার্সা তারকা রাফিনহা। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির জন্য এটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। কারণ চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে থেকে ইতোমধ্যে সব প্রতিযোগিতায় ১৪টি গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলেছে, ‘ডান উরুতে অস্বস্তি বোধ করায় ফরোয়ার্ড রাফিনহাকে প্রথমার্ধের পরেই তুলে নেয়া হয়েছে।’
মূলত প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে মাঠের একটি অংশে পা পিছলে পড়ে যাওয়ার পর থেকেই তাকে কিছুটা অস্বস্তিতে দেখাচ্ছিল, যা শেষ পর্যন্ত চোটে রূপ নেয়।
ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ভ্যান্ডারসনের দুর্দান্ত এক গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে দমে না গিয়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সকারুজ খ্যাত অস্ট্রেলিয়া দল। ম্যাচের ২৯ মিনিটে আলেসান্দ্রো সারকাটির দারুণ এক ফ্লিকে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা।
এর রেশ কাটতে না কাটতেই ৩৩ মিনিটে কনর মেটকালফের এক অবিশ্বাস্য দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে সানকর্প স্টেডিয়ামে উল্লাস ছড়িয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে সমতা ফেরায় সেলেসাওরা। হ্যারি সাউটার ডি-বক্সের ভেতরে ফাউল করলে ভিএআর ও রেফারির বাঁশিতে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি অধিনায়ক রাফিনহা। এর মাধ্যমে ২-২ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই ম্যাচে নিজেদের পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এন্ড্রিকের নিখুঁত পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস।
এরপর ম্যাচের ৮০ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ডি-বক্সে ফাউল করা হলে আরেকটি পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। নিজে নেয়া স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৪-২ করেন ভিনি। ম্যাচের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখেই দারুণ এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা।
