সুপ্রিম কোর্ট-অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়সহ বিচারাঙ্গনের কোথাও অনিয়ম-দুর্নীতি দেখলে বস্তুনিষ্ঠভাবে সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
এসআরএফ-এর সদস্যদের সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, পেশাগত জীবনে আমারও দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করার সুযোগ হয়েছে। সুতরাং সাংবাদিকদের সুখ-দুঃখ, কষ্ট-বেদনা কিছুটা হলেও বোঝার চেষ্টা করি। তবে সুপ্রিম কোর্টে যারা সাংবাদিকতা করেন, তাদের চোখে যদি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট, প্রশাসনের কোনো অনিয়ম-অনাচার বা দুর্নীতি পরিলক্ষিত হয়; তাহলে সংবাদটি বস্তুনিষ্ঠ আকারে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, 'অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আদালতকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আপনারা সংবাদ প্রচার করেছেন। এর কিছু কার্য সুফল আমরা পেয়েছি।'
একটি উদাহরণ টেনে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে একজন আইনজীবী কিংবা একজন বিচারপ্রার্থী মানুষ তিনি তিনটি আদালতে একই পিটিশন করেছেন। এর আগেও হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে স্থগিতাদেশ দেওয়ার পর রিকল করেছিল। এরপরও বিচারপতিদের বদান্যতার সুযোগ নিয়ে তৃতীয় আদেশটি হাসিল করেছেন। আমি সংশ্লিষ্ট আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি যে, এটা গুরুতর পেশাদারিত্বের অসদাচরণ। আমি আদালতের দৃষ্টিতে এনেছি। আদালত অপেক্ষা করছেন যে ফাইলগুলো আনার পরই পরবর্তী আদেশ দেবেন।
তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠান আমাদের রুটি-রুজির জায়গা। অধিকাংশ মানুষই আমরা হালাল রুজি উপার্জন করি। সেখানে দু-একজন দুষ্ট ব্যক্তির কারণে আমরা সামগ্রিকভাবে যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হই। আর এই ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। যদিও আদালতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু যখন এই অসংগতিগুলো প্রচার করা হবে। তখন সাংবাদিকদের ওপর এটাও দায়িত্ব।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অতি সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কর্মতৎপরতার কারণে আপিল বিভাগে ও হাইকোর্টে হাজারও মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। সেসবও জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে। শুধুমাত্র নেতিবাচক সংবাদ প্রচার নয়। বিচারাঙ্গনে যেসব মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়, সেসবও প্রচার করতে হবে। আমি চাই না আদালত সম্পর্কে কোনো ভুল বার্তা যাক। সঠিক তথ্য মানুষ জানুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এদিন দুপুর ১টায় সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কেটে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
এসআরএফ সভাপতি মো. দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. নুরুল আমিন বিপ্লব, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার), ডুলা সভাপতি আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন, বাংলাদেশ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান, ব্যারিস্টার এইচএম সানজিদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, প্রসিকিউটর তারেক আবদুল্লাহসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।
এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টায় সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি হয়। র্যালিটি কোর্ট প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে মূল ভবনের ফোয়ারার সামনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালিতে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. দিদারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ডালিম, সাবেক সভাপতি মাসউদুর রহমান রানা, জ্যেষ্ঠ কার্যনির্বাহী সদস্য মাজহারুল হক মান্না, কোষাধ্যক্ষ ইমন মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম ফকির, দপ্তর সম্পাদক রাব্বি হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক ইমরান নাফিজ, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম রুবেল, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দা সাবরিনা মজুমদারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সুপ্রিম কোর্টে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
পেশাগত দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা এবং আদালতসংক্রান্ত সংবাদ দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠভাবে পাঠকদের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের যাত্রা শুরু হয়।
দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
