দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধ তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনকে সময় বেঁধে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশ, নাম ও প্রতীক নিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে দু'পক্ষের বক্তব্য শোনার কাজ শেষ করতে হবে কমিশনকে। তার পর তাদের তিন মাসের মধ্যে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অর্থাৎ, আগামী চার মাসের মধ্যে তৃণমূলের নাম এবং প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে কমিশন।

বিধানসভা নির্বাচনের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে খান-খান হয়ে গিয়েছে। একদিকে মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। কার্যত এই বিরোধের মধ্যেই কয়েকদিন আগে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করেছে নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো গোষ্ঠী ব্যবহার করতে পারবে না। আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর, এই সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরেই প্রতীক এবং নাম নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়েছে। শুনানির শুরুতেই নাম এবং প্রতীকের বিষয়টি যাতে দ্রুত শুনানি করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় সেই আবেদন জানিয়েছিলেন মমতা তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বল।

তবে দু’পক্ষের কাছে শুনানির প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কিনা জানতে চান প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই বিষয়ে মমতা তৃণমূল সবুজ সঙ্কেত দিলেও ঋতব্রত তৃণমূল এই বিষয়ে ৬ সপ্তাহের সময় চায়। যদিও একমাসের মধ্যে কমিশনকে দু’পক্ষের বক্তব্য শুনতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এরপর তিনমাস সময় কমিশন পাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।
ফলে পশ্চিমবঙ্গের আগাযমী নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকে আলাদা আলাদা নাম ও আলাদা আলাদা প্রতীকে নির্বাচন লড়তে হবে।