ব্রাজিলিয়ানদের তীব্র ক্ষোভ পাত্তাই দিচ্ছেন না আনচেলোত্তি

‘সমালোচনা আমাকে ছুঁতেও পারে না!’

ব্রাজিলিয়ানদের তীব্র ক্ষোভ পাত্তাই দিচ্ছেন না আনচেলোত্তি

ফন্ট সাইজ:

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হতাশার ড্রয়ের পর চারদিক থেকে আসা তীব্র সমালোচনা ও বরখাস্তের দাবিকে বিন্দুমাত্র পাত্তা দিচ্ছেন না কার্লো আনচেলোত্তি। ব্রাজিল কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাইরের কোনো গুঞ্জন বা সমালোচনা তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় এতটুকু প্রভাব ফেলতে পারবে না। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তার মূল লক্ষ্য বিশ্বমানের এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা এবং সেই স্বপ্নের পথে অটল থাকতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

টাউনসভিলে সকারুজদের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে কোনোমতে হার এড়ায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৯৫ মিনিটে তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানের হেডে সমতায় ফিরে লজ্জা থেকে রক্ষা পায় ব্রাজিল। সম্প্রতি বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার ক্ষত এখনো টাটকা। তার ওপর র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সে দেশটির স্থানীয় মিডিয়া ও সমর্থকদের ক্ষোভ অগ্নিরূপ ধারণ করেছে। কদিন আগেই চার বছরের নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করলেও অনেকেই এখনই তাকে ছাঁটাইয়ের জোর দাবি তুলেছেন।

তবে এই ক্ষোভকে উড়িয়ে দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত আনচেলোত্তি বলেন, ‘কাজের সমালোচনা হওয়া ভালো। সমালোচনা অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। এই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার যে চিন্তাভাবনা, সমালোচনা সেখানে শূন্য শতাংশ প্রভাব ফেলে। যা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই।’

অস্ট্রেলিয়া সফরের এই প্রীতি ম্যাচগুলোকে মূলত নতুন প্রতিভা খোঁজার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন আনচেলোত্তি। স্কোয়াডের ২৬ জন ফুটবলারের মধ্যে ১০ জনই একদম অনভিজ্ঞ। আর বাকিদের ঝুলিতে রয়েছে ১০টিরও কম ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা।

দলের এই আমূল পরিবর্তন নিয়ে আনচেলোত্তি বলেন, ‘আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো এমন এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলা যারা ব্রাজিলকে আগামী কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপে টেনে নিয়ে যাবে। এই মুহূর্তে ডেকে পাঠানো ২৬ জনই যে সর্বসেরা তা নয়, তবে পর্যবেক্ষণের অংশ হিসেবেই তাদের সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

তবে ব্রাজিলের কোচের চেয়ারের ওপর ঐতিহাসিক চাপের কথা ভুলে যাননি চারবারের ইউরোজয়ী এই মাস্টারমাইন্ড। সেলেসাওদের ডাগআউটের অবিসংবাদিত শর্ত মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের কোচ হলে আপনাকে বিশ্বকাপ জিততেই হবে। আমি আমার ক্যারিয়ারে এমন কোনো বছরের কথা মনে করতে পারি না, যখন আমাকে নিয়ে উচ্চাশা ছিল না।’