কিশোর গ্যাং নির্মূলে শুধু সদস্যদের গ্রেপ্তার নয়, এসব অপরাধী গ্রুপের মূলহোতাদের শনাক্ত করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এক্ষেত্রে ‘শর্টকাট সমাধান’ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সে বিষয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআরবি-২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নাইমুল হাসান। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে এসআরবি’র মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাইমুল হাসান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের গ্রেপ্তার করলে গ্রুপগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তার করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশলের অংশ। আপনি যদি শর্টকাট সমাধান চান, এটা ভুল হবে। এ ধরনের গ্রুপ যাতে ভবিষ্যতে গড়ে উঠতে না পারে এবং তাদের কার্যক্রম যাতে বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। এসআরবি-২-এর অধিনায়ক বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি) সেল কাজ করছে। শিগগিরই এসব অপরাধী গ্রুপের কার্যক্রমের পেছনের কারণগুলো চিহ্নিত করে আরও বিস্তৃতভাবে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেয়া হবে। মোহাম্মদপুরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ঘটনায় গতকাল ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার দুই নম্বর আসামিকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ওই ঘটনায় উভয়পক্ষের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি আরও তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকায় ‘পাটালী গ্রুপের’ ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি এবং ‘আরমান-শাহরুখ’ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমান (২১)কে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-২। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই এবং মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ প্রসঙ্গে এসআরবি-২-এর অধিনায়ক বলেন, গত ১৫ই সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে ‘পাটালী গ্রুপের’ ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত ফরহাদের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার তিন নম্বর আসামি আরমানকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, আরমান-শাহরুখ গ্রুপের আরেক শীর্ষ সদস্য শাহরুখকে গত ১৬ই আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আরমানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
