প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূতরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দন বার্তার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট। গতকাল বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের প্রেস উইং জানায়, সাক্ষাতে প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, এ অংশীদারিত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে এ সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুবর্ণ সুযোগের বিস্তারিত তুলে ধরে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট।
অভিবাসন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের পথ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সমান সুযোগ সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশ্বাস দেন।
প্রেসিডেন্ট কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউ’র অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। মিয়ানমারে তাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউ’র আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূতরা তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
ওদিকে, দুপুরে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠনটির ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ভ্রাতৃপ্রতিম সৌদি আরবে দক্ষ ও সুশিক্ষিত জনশক্তি রপ্তানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতের অফুরন্ত সুযোগ ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, সোমবার বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতে সকল সম্প্রদায়ের সমঅধিকার ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এ দেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, মুসলমানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। সবার সমান অধিকার, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
