রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনী ও র্যাব (এসআরবি) সদস্য পরিচয়ে কিশোর গ্যাং নিয়ে বাসায় ঢুকে চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার রাতুল নামে ভুক্তভোগীর বাসায় ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন ওরফে তালা ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাতুল, বিএম ইব্রাহিম (৩৬) ও দীপক (৩৬) নামে দু’জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে তিনি বলেছেন, ঘটনার দিনে মোহাম্মদপুর নবীনগর হাউজিং এর ৭ নম্বর রোডের বাসায় থাকা এক নারী সহকর্মীর জন্য খাবার নিয়ে গিয়েছিলাম আমি। এরই মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিজেদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ওই বাসায় ঢুকে সকলকে মারধর শুরু করে। তাদের হাতে ওয়াকিটকি এবং পরনে সিভিল পোশাক ছিল। তারা এসেই আমাদের বলে- তোর ব্যবসায় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি রয়েছে, ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। একপর্যায়ে তারা আমার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ও আমার হাত ঘড়ি নিয়ে নেয় এবং আরও টাকা দেয়ার জন্য মারধর করে ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। এছাড়াও আরেকজনের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। ওই সময়ে ওই নারী সহকর্মীকে টানাহেঁচড়া ও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করে।
একপর্যায়ে তাদের পরিচয় সন্দেহ হলে আমি মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে ফোন দিই। পুলিশ আসার খবর পেয়ে তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। বলে- নিচে সেনাবাহিনী-র্যাব রয়েছে। তোদের গ্রেপ্তার করতে আসছে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে পুলিশ আশপাশের লোকজনকে সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের দেখালে তারা ভিত্তিতে ইব্রাহিম ও দীপককে শনাক্ত করে। এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ইব্রাহিম ওরফে তালা ইব্রাহিম ৫ই আগস্টের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাঁদা না দেয়ায় তালা লাগিয়ে দেয়। অনেকে বাধ্য হয়ে তাকে চাঁদা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের তালা খুলছেন। সে মোহাম্মদপুর চাঁদ উদ্যান এলাকায় আলোচিত গণধর্ষণ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি। আর এ সবের জন্যই নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, আমরা চাঁদাবাজির মামলায় যুবদলের এক বহিষ্কৃৃত নেতাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থার পর আদালতে সোপর্দ করবো।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইব্নে মিজান বলেন, তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা রয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতা বা কর্মী ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
