সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো ৮১৭ জনের নিয়োগপত্র দেয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগপত্র দেয়া হবে। এ প্রক্রিয়া আগামী ১লা অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার সচিবালয়ে ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অথচ নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় প্রায় ১০ লাখ ৬৯ হাজার পরীক্ষার্থী ছিলেন। চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দিতে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অনেক প্রার্থী ঠিকানা পরিবর্তন করায় সংশ্লিষ্ট তথ্যও পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, এবার জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননার সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ১০০ জন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষককে এ সম্মাননার আওতায় আনা হবে। ড. মাহদী আমিন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের পাশাপাশি মাধ্যমিকের সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও সম্মাননার জন্য বিবেচনা করা হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখার শিক্ষকদেরও এর আওতায় আনা হবে। আগামী ৫ই অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস’- উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের পুরস্কার প্রদান করবেন।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে বলেন, শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশ্ব শিক্ষক দিবসে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের সম্মাননা ও পুরস্কার দেয়া হবে। এ সময় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন নিয়েও কথা বলেন- শিক্ষামন্ত্রী। খাতা মূল্যায়নে কোনো পরীক্ষকের অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান- তিনি। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা ও মান বজায় রাখার ওপরও জোর দেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ও রকিবুল ইসলাম বকুল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব জেসমিন নাহারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
