প্রতারণার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

বিমানের টিকিট কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে লাভের প্রলোভন এবং অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে সাইবার প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার রাজধানীর ঢাকা মেট্রো (উত্তর) পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— কম্বোডিয়াফেরত চক্রের অন্যতম মূল হোতা মো. মেহেদী হাসান ওরফে সোহাগ (২৭), তার সহযোগী আবুল হাসান ওরফে নাঈম (২৪) এবং সুমাইয়া খাতুন ওরফে শান্তা (২৪)। খুলনা জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের দাবি, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া প্রোফাইল তৈরি করে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলতো এবং কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, মামলার বাদী এন সায়েম উদ্দিন আহমেদ (৬২) নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে টেলিগ্রামের মাধ্যমে চক্রটির পরিচয় হয়। তারা নিজেদের ‘অওজচঙঞ ডঙজকওঘএ এজঙটচ’-এর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয় এবং বিমানের আন্ডাররেটেড টিকিট ১ থেকে ৫ স্টার রেটিং দিয়ে মূল্যায়নের পর বেশি দামে বিক্রি করে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখায়।
তিনি বলেন, প্রলোভনে পড়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথম বিনিয়োগ শুরু করেন ভুক্তভোগী। শুরুতে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫১ টাকা জমা দিলে লাভসহ ১১ লাখ ৬৯ হাজার ২৫০ টাকা দেয়ার কথা বলা হয়। তবে সেই টাকা তুলতে গেলে নিয়মকানুন, সিকিউরিটি মানি, ভিআইপি চ্যানেল খোলা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কণঈ ক্লিয়ারেন্স’-এর অজুহাতে ধাপে ধাপে আরও লাখ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে ধাপে ধাপে মোট ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও বিকাশ নম্বরে পাঠিয়ে প্রতারিত হন তিনি। এ ঘটনায় রাজধানীর দারুস সালাম থানায় মামলা করেন।
তদন্তের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, কম্বোডিয়ায় অবস্থানকালে আসামি মেহেদী হাসান প্রেমে ফেলে সুমাইয়া খাতুনকে দিয়ে দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলায়। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত লাখ লাখ টাকা সুমাইয়ার অ্যাকাউন্টে জমা করে। পরে সেই টাকা মেহেদী ও নাঈমের পরিচালিত বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়া হয়। সুমাইয়ার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মাত্র এক মাসেই বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, কম্বোডিয়াভিত্তিক এই প্রতারক চক্রে বেশ কয়েকটি দল পৃথক ডেস্কে কাজ করে। ফেসবুকে সুন্দর মেয়েদের ছবি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ছেলেদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হতো। ফ্রেন্ড হওয়ার পর তিনদিনের পূর্ব-প্রস্তুতকৃত নির্ধারিত ‘স্ক্রিপ্ট’ অনুযায়ী চ্যাট করে টার্গেট করা ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর সংগ্রহ করা হতো। পরে সরাসরি কল বা ভিডিও কলে প্রলুব্ধ করে অনলাইন ব্যবসায় বিনিয়োগের ফাঁদে ফেলা হতো।
অভিযানের সময় আসামিদের কাছ থেকে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংকের তিনটি এটিএম ও ডেবিট কার্ড, ভুয়া টেলিগ্রাম গ্রুপের স্ক্রিনশট, পাসপোর্টের কপি, কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর), ব্যাংক লেনদেনের বিবরণীসহ নানান আলামত জব্দ করা হয়েছে।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।