মানিকগঞ্জে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার দায় দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিকুল ইসলাম। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত ড. রফিকুল ইসলাম আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেন। বিতর্কিত এই নেতা ভোটারদের কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের উপর দায় চাপিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
তিনি জানিয়েছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনকে দায়ী করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো পরিবেশ তারা তৈরি করতে পারেনি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোট নিজের কব্জায় নিতে সুকৌশলে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে (সাটুরিয়া-সদর) নিজেকে স্বতন্ত্র জাহির করে নির্বাচনে অংশ নেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে জোর লবিং চালিয়ে ব্যর্থ হন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে। ওই সময় জাহিদ মালেকের ক্যাডার বাহিনীর কাছে হেনস্তার শিকারও হয়েছিলেন। সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের নওগাঁও গ্রামের রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন আমেরিকার মিসৌরী আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গায়ে থেকে আওয়ামী লীগের তকমা ঝেড়ে রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার চেষ্টা করেন। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই প্রথম পর্বে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। পড়ে নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পান। ভেতরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আদর্শ থাকলেও উপরে উপরে নিজেকে স্বতন্ত্র জাহির করে ভোটের মাঠে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নেমে পড়েন। কিন্তু আওয়ামী লীগের তকমা লাগানো ড. রফিকুল ইসলাম ভোটের মাঠে নিজেকে জাগিয়ে তুলতে ব্যর্থ হয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নির্বাচন বয়কট সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা ড. রফিক লিখেছেন, ‘প্রতীক পাওয়ার পর থেকে আমিসহ আরও কয়েকজন প্রার্থী বিভিন্ন সময়ে রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অনেক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলাম। দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত তার কোনো প্রতিকার বা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি ও সংশয় দূর করতে নির্বাচনের মাঠে কোনো সমতা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে এই প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচন একটি প্রহসন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি প্রহসনের নির্বাচনের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চাই না। তাই এই নির্বাচন বর্জন করছি।
মানিকগঞ্জে প্রশাসনকে ব্যর্থ আখ্যা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন বর্জন
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
