দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এখন ইলিশের চোরাচালানের উপর

দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজর এখন ইলিশের চোরাচালানের উপর

ফন্ট সাইজ:

উৎসবের মওসুমে ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ আসার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। আবার এই প্রথম ভারতের গুজরাট থেকে বাংলাদেশ ইলিশ আমদানি শুরু করেছিল। তবে মাঝপথে তা বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই আবহে ইলিশের চাহিদার উপর নির্ভর করে দুইদিক থেকেই ব্যাপক হারে ইলিশের চোরাচালান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ চোরাপথে আসছে ভারতে। আবার গুজরাটের ইলিশ চোরাপথে বাংলাদেশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে গবাদিপশু ও মানুষের অবৈধ পারাপার রুখতে অভ্যস্ত ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা এখন ইলিশের চোরাচালান রোধেও সজাগ দৃষ্টি রাখছেন।

সম্প্রতি সীমান্ত সমন্বয় বিষয়ক এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি এ ব্যাপারে বিএসএফ’র সহযোগিতা চেয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে বলা হয়েছে। বিএসএফ’র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে সীমান্ত সমন্বয় বিষয়ক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বিজিবি ইলিশ চোরাচালানের বিষয়টি তুলে ধরেছিল। তারা জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা এখন তুঙ্গে এবং এ বছর মাছের জোগান কম হওয়ায় চোরাচালানের ফলে দাম বেড়ে গেছে। বিএসএফ’র সঙ্গে বৈঠকে বিজিবি দাবি করেছে, অবৈধ পথে গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশের বাজারে আসা অব্যাহত রয়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, উৎসবের মওসুমের আগে পদ্মার ইলিশ ভারতে এবং গুজরাটের ইলিশ বাংলাদেশে চোরাচালান বন্ধ করতে বিএসএফ’র সহায়তা চেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বাংলাদেশ সরকার ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রাখলেও, এক অভাবনীয় পটপরিবর্তনে নয়াদিল্লি এই বছরের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে ইলিশ রপ্তানি শুরু করেছিল। এর বেশির ভাগই ছিল গুজরাটের ইলিশ। তবে গুজরাটের ইলিশের গুণমান খারাপ হওয়ার কারণ দেখিয়ে গত সপ্তাহে ঢাকা সেই আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এবং আমদানিকারকদের দেয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) সরকার বাতিল করে দিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশ যাতে স্থানীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি না হয়, কম মূল্য দেখিয়ে অর্থ পাচার (আন্ডার-ইনভয়েসিং) রোধ করা যায় এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়ানো যায়— সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এক বিএসএফ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইলিশের এই অবৈধ ও দ্বিমুখী চোরাচালান রুখতে বিজিবি নদী ও স্থল সীমান্তে দিন-রাত নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। বিএসএফ’র সূত্র জানিয়েছে, ইলিশ পাচারের বিষয়টি মূলত পদ্মা নদীর জলপথ এবং মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার (পেট্রাপোল সমন্বিত চেকপোস্ট-সহ) মতো জেলাগুলোর ট্রানজিট পয়েন্ট বা যাতায়াতের পথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। পাচারকারীরা গোধূলি বেলায় নিয়মিত মাছ ধরার আড়ালে ছোট দেশি নৌকা ব্যবহার করে নদীর সীমানা দিয়ে ইলিশভর্তি বড় বড় বস্তা লুকিয়ে পাচার করে। স্থলপথে, মোটর পার্টসের মতো বৈধ পণ্যবাহী বাণিজ্যিক যানবাহনেও প্রায়শই লুকিয়ে রাখা অবৈধ মাছের চালান ধরা পড়েছে।