ইসির অফিস সহকারী চাকরিচ্যুত

অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান

ইসির অফিস সহকারী চাকরিচ্যুত

ফন্ট সাইজ:

অনুমতি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহকারী মোছা. ফাতেমা খাতুনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সোমবার ইসি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে জানা গেছে, মোছা. ফাতেমা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

আদেশে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন ফাতেমা খাতুন। এ সময় তিনি নতুন জন্মনিবন্ধন নম্বর ও পাসপোর্ট ব্যবহার করে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে৫৮৭ ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। অথচ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১৯ মার্চ পর্যন্ত তার ছুটি অনুমোদন করা হয়েছিল। ওই ছুটি শুরুর আগেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন।

ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগ না দিয়ে ২০২৫ সালের ২০ মার্চ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন করেন তিনি। এ সময় একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাসার ঠিকানায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি পরিবারসহ বিদেশে অবস্থান করছেন। এরপর বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০১/২০২৬ রুজু করা হয়।

গত ৯ এপ্রিল তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠানো হয়। তবে তিনি কিংবা তার পক্ষে কেউ তা গ্রহণ করেননি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের জবাব না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন না করায় বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান ঝিনাইদহের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন। তদন্তে ইমিগ্রেশন থেকে সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনুমোদিত ছুটি শুরুর আগেই ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ফাতেমা খাতুন দেশত্যাগ করেন। তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করেও তদন্ত কর্মকর্তা ব্যর্থ হন। পরে তার বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ বিধিতে উল্লেখিত অন্য কোনো গুরুদণ্ড কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

গত ১৩ আগস্ট জারি করা ওই নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়। নোটিশটি তার সর্বশেষ বাসস্থানে টানিয়ে প্রদর্শনের পাশাপাশি স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং কর্মস্থলে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি বা তার পক্ষে কেউ নোটিশ গ্রহণ করেননি এবং নির্ধারিত সময়েও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। পরে নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে।