গোপনে আরব আমিরাতে নেতানিয়াহু, নেপথ্যে কী?

গোপনে আরব আমিরাতে নেতানিয়াহু, নেপথ্যে কী?

ফন্ট সাইজ:

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি ইসরাইলি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিএনএনের কাছে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে ইরান ইস্যুই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে নেতানিয়াহুর দপ্তর সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মন্তব্য জানতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর সফরটি এমন এক সময়ে হলো, যখন ইসরাইলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে ইসরাইল কোনো সতর্কবার্তা পেয়েছিল কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।

হারেৎজ ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলার কয়েক দিন আগে শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। একই বিষয়ে দ্য আটলান্টিক ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালও মিসরের পক্ষ থেকে ইসরাইলকে একাধিক সতর্কবার্তার কথা জানিয়েছে।

নেতানিয়াহুর দপ্তর অবশ্য এসব দাবি অস্বীকার করে বলেছে, কোনো সতর্কবার্তা তারা পায়নি। দপ্তরের ভাষ্য, নেতানিয়াহুর নির্বাচনী ক্ষতি করতেই এসব ‘মনগড়া মিথ্যা’ ছড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিরোধীরা বিষয়টি সামনে এনে ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহির দাবি জোরদার করেছেন। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জনমত জরিপে থাকা গাদি আইজেনকোট শনিবার বলেন, সতর্কবার্তার বিষয়টি নেতানিয়াহুর ‘অন্ধত্ব, ঔদ্ধত্য ও দায়িত্বহীনতার’ প্রমাণ।
এর আগে মে মাসে নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছিল, মার্চে ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি গোপনে আমিরাত সফর করেছিলেন। আমিরাত তখন ওই দাবি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে।

চলমান যুদ্ধে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বেড়েছে বলে ইসরাইলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আমিরাতে ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের খবরও পাওয়া গেছে।
নেতানিয়াহু এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো আনুষ্ঠানিক সফর করেছেন বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করা হয়নি।