নিরপেক্ষতা কি চোখ বন্ধ করে সমদূরত্ব বজায় রাখার নাম, নাকি জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা? যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা, সামরিক জোট এবং পরাশক্তির প্রতিযোগিতায় বিভক্ত আজকের বিশ্বে প্রশ্নটি আর তাত্ত্বিক নয়। ২৭ সেপ্টেম্বরের গণভোটে সুইজারল্যান্ডের জনগণ এর একটি স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন। তারা নিরপেক্ষতাকে প্রত্যাখ্যান করেননি; বরং নিরপেক্ষতার এমন কঠোর সাংবিধানিক সংজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সংকটে সরকারের হাত বেঁধে দিতে পারত।
‘সুইস নিরপেক্ষতা রক্ষা’ উদ্যোগটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭০.১৫ শতাংশ ভোটার। পক্ষে ছিলেন মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশ। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, ২৬টি ক্যান্টনের একটিও প্রস্তাবটির পক্ষে যায়নি। ভোটে অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। এটি সামান্য ব্যবধানের পরাজয় নয়, বরং একটি স্পষ্ট জাতীয় সিদ্ধান্ত।
তবে এই ফলকে ‘সুইসরা নিরপেক্ষতা থেকে সরে যাচ্ছে’ বলে ব্যাখ্যা করা ভুল হবে। বরং বার্তাটি উল্টো। সুইসরা তাদের ঐতিহাসিক নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে চান, কিন্তু সেটিকে এমনভাবে পাথরে খোদাই করতে চান না যাতে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে রাষ্ট্রের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।
সুইস নিরপেক্ষতা কোনো নতুন রাজনৈতিক কৌশল নয়। ১৮৪৮ সাল থেকে এটি দেশটির সাংবিধানিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপের মাঝখানে এই নীতি সুইজারল্যান্ডকে শুধু সামরিক সংঘাত থেকে দূরে রাখেনি, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা, মানবিক কূটনীতি এবং শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রেও বিশেষ বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে।
কিন্তু ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ পুরোনো ধারণাটিকে নতুন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করায়। সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাশিয়াবিরোধী নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ গ্রহণ করার পর প্রশ্ন ওঠে, একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কি যুদ্ধরত একটি পক্ষের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় অংশ নিতে পারে? নাকি সেটি নিরপেক্ষতার মৌলিক চেতনার বিরোধী?
Pro Schweiz এবং উদ্যোগটির সমর্থকদের বক্তব্য ছিল, বর্তমান নীতি সুইস নিরপেক্ষতাকে ধীরে ধীরে দুর্বল করছে। তাই তারা ‘স্থায়ী ও সশস্ত্র’ নিরপেক্ষতার আরও কঠোর সাংবিধানিক ভিত্তি চেয়েছিলেন। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে ভবিষ্যতে সুইজারল্যান্ডের নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হতো এবং ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও কঠোর সীমা তৈরি হতো।
তাদের যুক্তি একেবারে অমূলক নয়। একটি দেশ যদি নিজেকে নিরপেক্ষ বলে, তাহলে সেই নিরপেক্ষতার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় শুরু এবং কোথায় শেষ, তার একটি সীমারেখা থাকা দরকার। কিন্তু সমস্যাটি হলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতি সংবিধানের কয়েকটি লাইনের মতো স্থির নয়।
কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে একটি ছোট রাষ্ট্রে সামরিক আগ্রাসন চালালে একটি নিরপেক্ষ রাষ্ট্র কি আগ্রাসী ও আক্রান্ত উভয় পক্ষকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একই চোখে দেখবে? আবার উল্টো প্রশ্নটিও জরুরি। নিরপেক্ষতার দাবিদার কোনো দেশ যদি পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে, তাহলে বিশ্বের অন্য অংশ তার নিরপেক্ষতার ওপর কতটা আস্থা রাখবে?
এই দুই প্রশ্নের কোনোটির উত্তর সহজ নয়। এখানেই সুইস গণভোটের তাৎপর্য। ভোটাররা নিরপেক্ষতার ধারণা বাতিল না করেও সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা খোলা রেখেছেন। নীতি থাকবে, কিন্তু পরিস্থিতি বিচার করার রাজনৈতিক ক্ষমতাও থাকবে। এটিই কৌশলগত নমনীয়তা।
ইউক্রেন যুদ্ধ ইউরোপকে আরেকটি বড় শিক্ষা দিয়েছে। দশকের পর দশক সামরিক জোটের বাইরে থাকা সুইডেন ও ফিনল্যান্ড নিরাপত্তা পরিবেশ বদলে যাওয়ার পর নিজেদের নীতি পুনর্বিবেচনা করে ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের পরিস্থিতি অবশ্য তাদের মতো নয়। সুইস নিরপেক্ষতার ঐতিহাসিক, আইনি ও কূটনৈতিক ভিত্তি আলাদা। কিন্তু তুলনাটি একটি সত্য মনে করিয়ে দেয়: কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি শূন্যতার মধ্যে পরিচালিত হয় না। বিশ্ব বদলালে ঝুঁকির সংজ্ঞাও বদলায়।
এখানেই নিরপেক্ষতা এবং বিচ্ছিন্নতার পার্থক্য। একটি দেশ সামরিকভাবে নিরপেক্ষ হতে পারে, কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল। রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশীদের নিরাপত্তা বাস্তবতা উপেক্ষা করতে পারে না।
সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে জেনেভার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের ইউরোপীয় কার্যালয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র এই শহর। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও রেডক্রস আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গেও জেনেভার সম্পর্ক গভীর। ফলে সুইজারল্যান্ড শুধু একটি ছোট ইউরোপীয় রাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক সংলাপেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
কিন্তু মধ্যস্থতাকারীর বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য কি সব বিষয়ে নীরব থাকা প্রয়োজন? কঠোর নিরপেক্ষতার সমর্থকেরা মনে করেন, কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সুইজারল্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে বিরোধীদের যুক্তি, আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ রাজনৈতিক নীরবতা সুইজারল্যান্ডের মূল্যবোধভিত্তিক কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
২৭ সেপ্টেম্বরের ভোট এই বিতর্কের স্থায়ী নিষ্পত্তি করেনি। তবে ভোটাররা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাটি অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভাষা, অঞ্চল ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পার্থক্য সত্ত্বেও ২৬টি ক্যান্টনের একটিও উদ্যোগটির পক্ষে যায়নি। অর্থাৎ নিরপেক্ষতার বর্তমান কাঠামো আমূল বদলানোর প্রয়োজন সুইস ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ দেখেননি।
একই দিনে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি গণউদ্যোগও বড় ব্যবধানে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। দেশীয় টেকসই খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যের ভূমিকা শক্তিশালী করা এবং বিশুদ্ধ পানির সুরক্ষায় আরও উচ্চাভিলাষী ব্যবস্থা নেওয়া ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু ৭২.৫২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নেন।
এখানেও বার্তাটি সূক্ষ্ম। খাদ্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, সুইসরা তা বলেননি। পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন নেই, তাও বলেননি। তারা বলেছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রস্তাবিত সাংবিধানিক পথটি গ্রহণযোগ্য নয়। সুইস প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই। কোনো উদ্দেশ্য জনপ্রিয় বা নৈতিকভাবে আকর্ষণীয় হলেই তার নামে যেকোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন অনুমোদন পায় না। ভোটাররা লক্ষ্যটির পাশাপাশি খরচ, বাস্তবায়নযোগ্যতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং রাষ্ট্রের ওপর নতুন বাধ্যবাধকতাও বিবেচনা করেন।
সুইস নিরপেক্ষতার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে সরাসরি এক করে দেখা যাবে না। ভারত নিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়। কিন্তু নয়াদিল্লির ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ ধারণার সঙ্গে একটি তুলনা করা যায়। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়াডে কাজ করে, আবার রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ায়। এর মূল দর্শন হলো, একটি শক্তিকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক যেন অন্য সব সম্পর্কের ওপর স্থায়ী ভেটো তৈরি না করে।
সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা আইনি ও ঐতিহাসিকভাবে সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও ২৭ সেপ্টেম্বরের ভোটে একটি মিল স্পষ্ট: রাষ্ট্র নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গা ধরে রাখতে চায়।
বাংলাদেশের মতো অর্থনৈতিকভাবে উদীয়মান এবং ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশের জন্য এখানেই বড় শিক্ষা। বাংলাদেশের একদিকে ভারত, অন্যদিকে চীন। যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও কূটনৈতিক অংশীদার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। জাপান অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে জ্বালানি, শ্রমবাজার ও প্রবাসী আয়ের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো পররাষ্ট্রনীতিকে ‘কার পক্ষে’ এবং ‘কার বিপক্ষে’ এমন দ্বিমাত্রিক প্রশ্নে নামিয়ে আনা। ঢাকার প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে?
ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা মানেই চীনের বিরোধিতা নয়। চীনের বিনিয়োগ গ্রহণ মানেই যুক্তরাষ্ট্রবিরোধিতা নয়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে অর্থনৈতিক বা নিরাপত্তা সম্পর্ক বাড়ানো মানেই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কমিয়ে দেওয়া নয়। একইভাবে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও মূল্যবোধভিত্তিক সম্পর্কের বিকল্প নয়।
ছোট ও মাঝারি রাষ্ট্রের কূটনীতির শক্তি কোনো একটি শিবিরে পুরোপুরি ঢুকে যাওয়ার মধ্যে নয়। শক্তি হলো প্রয়োজনীয় সম্পর্কগুলোকে পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করে জাতীয় স্বার্থে পরিচালনার সক্ষমতা।
সুইস গণভোট বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ হওয়ার কোনো পাঠ দেয় না। দুই দেশের ইতিহাস, ভূগোল ও নিরাপত্তা বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়: পররাষ্ট্রনীতিতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের একটি হলো স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা।
আজকের বিশ্ব আর স্নায়ুযুদ্ধের দুই মেরুর বিশ্ব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, জাপান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু শক্তিকেন্দ্র নিজস্ব প্রভাব তৈরি করছে। এই বহুমেরু বিশ্বে ছোট রাষ্ট্রের জন্য কূটনীতি মানে সবার কাছ থেকে সমান দূরত্ব রাখা নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে ভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করা, অথচ নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অন্যের হাতে তুলে না দেওয়া।
২৭ সেপ্টেম্বরের গণভোট তাই শুধু নিরপেক্ষতার সংজ্ঞা নিয়ে ভোট নয়। এটি অনমনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় কৌশলগত স্বাধীনতার মধ্যকার একটি পছন্দও। সুইসরা বলেছেন, নিরপেক্ষতা থাকবে, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে আগামীকাল পৃথিবী বদলে গেলেও সংবিধানের একটি কঠোর বাক্য রাষ্ট্রের সামনে সব দরজা বন্ধ করে দেয়।
খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তারা একই সতর্কতা দেখিয়েছেন। লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেই তার নামে যেকোনো সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না।
এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির মধ্যে বড় একটি শিক্ষা রয়েছে। রাষ্ট্রের নীতি দৃঢ় হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রের চিন্তা অনমনীয় হলে সেটিই একসময় দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের জন্য নিরপেক্ষতা দুর্বলতার প্রতীক নয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি জাতীয় স্বার্থ রক্ষার কৌশল। সেই কৌশলকে কার্যকর রাখতে হলে সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া বাস্তবতার উত্তর দেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
বাংলাদেশের জন্যও প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত একই জায়গায় এসে দাঁড়ায়। ঢাকা কি অন্য পরাশক্তির প্রতিযোগিতার মাঠ হবে, নাকি নিজের স্বার্থ নির্ধারণ করে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করবে?
সুইস ভোটের সবচেয়ে শক্তিশালী বার্তাটি সম্ভবত এখানেই: নীতি ধরে রাখুন, কিন্তু নিজের হাত নিজে বেঁধে ফেলবেন না।
লেখক: জেনেভাভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রাইভেট ব্যাংকিং ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম কমপ্লায়েন্স বিশেষজ্ঞ, কলামিস্ট ও কবি। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক আর্থিক স্বচ্ছতা ও কৌশলগত বিষয় নিয়ে নিয়মিত লেখেন।
ই-মেইল: [email protected]
