জাসদ কার্যালয়ে পুলিশের অভিযান

২৫১ জন মুক্ত, ২৭ জন কারাগারে

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সন্দেহে আটক ২৭৮ জনের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে ২৫১ জনকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বাকি ২৭ জনকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর রোববার ভোর ৫টার দিকে ছেড়ে দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, শনিবার বিকালে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিতে অভিযান চালিয়ে ২৭৮ জনকে আটক করে পুলিশ। এদের মধ্যে ১৫৩ জনকে শাহজাহানপুর থানা এবং ১২৫ জনকে পল্টন থানায় নেয়া হয়। পরে পল্টন থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে আটক ব্যক্তিদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাই করা হয়।
রোববার পল্টন মডেল থানার সামনে জাসদের নেতাকর্মী এবং আটক ব্যক্তিদের স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। শনিবার রাত থেকেই তারা থানায় অবস্থান নেন এবং দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করেন। জাসদ নেতাদের আটক ব্যক্তিদের তালিকা ও দলীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র সংগ্রহ করে পুলিশের কাছে দিতে দেখা যায়।

রোববার সকাল থেকে থানার সামনে অপেক্ষা করছিলেন বরিশালের বাসিন্দা এনায়েত হোসেন। তিনি বলেন, আমার বন্ধু আজম তালুকদারকে পুলিশ আটক করেছে। সে জাসদ করে, সেজন্য এখানে এসেছি। পুলিশ বলছে, তার কাগজপত্র দেখাতে এবং দলীয় পরিচয়পত্র দিতে। এখন সেগুলো সংগ্রহ করছি।

পল্টন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা জাসদের নেতাদের কাছ থেকে কাগজপত্র (নেতাকর্মীদের তালিকা) নিয়েছি। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে ২৫১ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাকি ২৭ জনকে আওয়ামী লীগ সন্দেহে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন মানবজমিনকে বলেন, এটা আমাদের সাংগঠনিক প্রোগ্রাম ছিল। এখানে অন্য দলের নেতাকর্মী আসার সুযোগ নেই। আমরা পুলিশকে জানিয়েই আমাদের প্রতিনিধি সভা করছিলাম। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীরা এসেছিলেন। জাসদ একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, এখানে নাশকতার কোনো প্রশ্ন আসে না। পুলিশ আমাদের কাছে কাছ থেকে নেতাকর্মীদের তালিকা নিয়েছে। সেসব দেখে যাচাই-বাছাই করে অনেক নেতাকর্মীকে ছেড়ে দিয়েছে। বাকি ২৭ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য বলেন, তিনি একসময় জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা থাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পুরনো রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে গিয়েছিলাম। তখন হঠাৎ নিচতলার প্রধান ফটকে হট্টগোল ও স্লোগানের শব্দ শুনে নিচে নামি। পুলিশকে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও পুলিশ আমাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও বিষয়টি আমলে নেয়নি এবং দীর্ঘ সময় থানায় আটকে রাখে। পরে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোর ৫টার দিকে আমাকে মুক্তি দেয়া হয়।