সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হয়েও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র হাতে পাননি প্রায় ২৫শ’ প্রার্থী। দীর্ঘ আট মাস অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার থেকে দেশ জুড়ে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। এতে শত শত প্রার্থীর হাতে পৌঁছেনি কাঙ্ক্ষিত কাগজ। নিয়োগপত্রের দাবিতে গতকাল শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন নিয়োগপ্রত্যাশীরা। বিক্ষোভ চলার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল যায় সচিবালয়ে। তবে প্রতিনিধিদলকে আলোচনা ছাড়াই ফিরতে হয়।
ওদিকে দ্বিতীয় দফায় দেশের সাত জেলায় নতুন করে ১৩৬ জনের নিয়োগপত্র রি-ইস্যু করা হয়েছে।
গতকাল সকালেই বাদ পড়া প্রার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হন। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন। ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে মেট্রোরেলের নিচে টিএসসি অভিমুখী সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে যায়। আন্দোলনকারীদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও যারা নিয়োগপত্র পাননি, তাদের দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে। কাউকে নিয়োগ থেকে বাদ দেয়া হলে তার কারণও স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
শাহবাগে অবস্থানের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরার কথা ছিল তাদের। প্রতিনিধিদলের সদস্য তানভীর রহমান বাপ্পারাজ জানান, তারা সচিবালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রত্যাশিত সাক্ষাৎ না পেয়ে বিকাল ৩টার পর তারা ফিরে আসেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তারা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা এসব প্রার্থীর অনেকেই অন্য চাকরির সুযোগও ছেড়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন, নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আন্দোলনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় সাত জেলায় ১৩৬ জনের নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, পাবনা, খুলনা, ঠাকুরগাঁও, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নড়াইল। এরমধ্যে রাজশাহীতে ২২ জন, পাবনায় ৩৭ জন, খুলনার চার উপজেলায় ৩০ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ২০ জন এবং নড়াইলে ৯ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় একজন করে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এসব প্রার্থীকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা বেতনস্কেলের গ্রেড-১৩-এর আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বহু প্রার্থী বাদ পড়ার বিতর্কের মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দিয়েছে রাজশাহী জেলা। রোববার রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আনোয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়। চিঠিতে নতুন করে মোট ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। দুই দফায় মোট ১৬১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিনিধি জানান, সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ ও মেধা-যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জকসু ও জবি শাখা ছাত্রশক্তি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তরুণদের চাকরির বাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ই জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত ফল। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নিয়োগপত্রের অপেক্ষায় ছিলেন প্রার্থীরা। দীর্ঘ আট মাস পর গত ২৪শে সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র দেয়া শুরু হয়। কিন্তু নিয়োগপত্র বিতরণ শুরুর পরই সামনে আসে নতুন সংকট। বিভিন্ন জেলার শত শত চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী জানতে পারেন, তাদের নিয়োগপত্র এখনো ইস্যু হয়নি।
