রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি, পিস্তলসহ ১৫-২০ জনের একটি দল ওই বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িটির মূল ফটক থেকে শুরু করে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যন্ত ভাঙচুর করে তারা। যার ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান খানের ভাতিজা মো. রাজু বলেন, হামলাকারীরা বাড়ির মূল ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। ভেতর থেকে কেউ বের না হওয়ায় তারা বাইরে থেকে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না, বের হ’। একইসঙ্গে তারা চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। রাজু বলেন, হামলাকারীরা বাড়ির গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাঁচ ভাঙচুর করে। পরে ইটের টুকরা দিয়ে দ্বিতীয় তলার আরও দু’টি জানালার কাঁচও ভেঙে ফেলে। তিনি বলেন, ৯৯৯-এ ফোন করার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে থানায় গেলে আদাবর থানার ওসি অন্য কাজে ব্যস্ত আছেন বলে জানান। এরপর পুরো ঘটনা জানিয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে একবার আদাবর থানার ওসিকে ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও করতে দেখা গেছে। যার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে।
আমিনুর রহমানের আরেক ভাতিজা মনির হোসেন বলেন, বাড়িটির মালিক আমার চাচা আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরও একবার এই বাড়িটি দখল করা হয়েছিল। এখন আবারো এমন হামলা চালানো হলো।
এ বিষয়ে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আদাবরে বাড়ি দখল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে দেরিতে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেছে। আগে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ভিডিও ধারণের বিষয়ে ওসি বলেন, এ বাড়িটির বিষয়ে অভিযোগ ছিল। আমার পুলিশিং স্টাইল আলাদা। আমি একা একা কাজ করি। তদন্তের কাজে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল।
