রাতের আঁধারে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে শাসক দলের লোকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। এর আগে সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) প্রেসিডেন্টসহ বোর্ড নেতারা সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রমাণ। শাসক দলের লোকজন যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সেটি সব গণমাধ্যমে এসেছে। সরকারের উচিত এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক খারাপ উদ্দেশ্যে আক্রোশমূলক আচরণ করা হয়েছে, সেটি সব মহলে নিন্দিত ও ধিকৃত হয়েছে। সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়েছে যে, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য কোন খাতের ওপর কখন আক্রমণ হবে, তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে সরকারের খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
মিরপুরের ঘটনা তিনি বলেন, সেখানে জনপ্রতিনিধি আছে, সরকার আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে। এভাবে একটি প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দেয়া হয়েছে। এগুলো পেছনের দিনের সহিংসতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বস্তির ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সে স্বপ্নগুলো এখন হারাতে বসেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যারা স্থানীয়ভাবে এসব মব তৈরি করে, মাসলম্যান তৈরি করে আবার পুরনো সেই দিন ফিরিয়ে আনার অপচেষ্টা করছেন, জনগণ কিন্তু তাদেরকে এটা প্রশ্রয় দেবে না, তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাদেরকে আমরা বিরত হতে বলবো।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, স্পেসিফিক জুলাই যোদ্ধাদের ওপর আক্রমণটা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় এবং অপমানজনক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এটার খুব তীব্র নিন্দা করি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, মাত্র ছয় মাস হলো সরকার গঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকারকে তারা সময় দিতে চান, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করছেন। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ব্যবসায়ের জন্য হুমকি উল্লেখ করে মো. শাহরিয়ার বলেন, আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই, দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই, কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যারা আছেন, তাদেরই রাজনীতিটা করা উচিত। বৈঠকের আলোচনা বিষয়ে বিপিএএমইএ প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আমাদের কাছ থেকে শুনতে চেয়েছেন, আমাদের সেক্টরের সমস্যা। আমরা সমস্যাগুলো তাকে উদ্ধৃত করেছি এবং এই সেক্টরের শুধু উনি সমস্যাই শুনেননি, আমার কাছে ভালো লেগেছে, এ সেক্টরের সম্ভাবনা যেটা হবে, সে সম্ভাবনা নিয়ে উনি জানতে চেয়েছেন। আমরা সম্ভাবনা নিয়ে উনার সঙ্গে কথা বলেছি।
মো. শাহরিয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আশ্বস্ত করেছেন, তাদের খাতভিত্তিক সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে এবং জাতীয় সংসদে কথা বলবেন। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন), মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম প্রমুখ।
