রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, এটা যদি আপনারা কোনো ধরনের বিচার এবং ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে না নেন, তাহলে আমরা মনে করবো এটা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই অবগত আছেন এবং সবাই এটার ভাগ পাবেন। গতকাল দুপুরে এনসিপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেন আসিফ মাহমুদ। এ সময় তিনি ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে দখলদারদের টানানো সমমনা দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ডও এ সময় অপসারণ করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেয়া হবে না। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এনসিপি’র মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুদের চিকিৎসা এবং টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ, টিকা, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জামও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপি’র এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ এবং সংগঠিত একটা অপরাধ এটা। এটা রাষ্ট্রের কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সংগঠিত অপরাধ এবং একটা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটা লুটতরাজ হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে এনসিপি’র এই নেতা বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে চলে যায়। পরে ঘটনা শেষ হওয়ার পর পুলিশ সেখানে পরিদর্শনে আসে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
