ভোলার চরফ্যাশনে নিখোঁজ হওয়া বাশার পন্ডিত (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করেছে নিহতের স্বজন ও উত্তেজিত এলাকাবাসী। পরে ওই নারীর বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ওই নারীর বাড়ি সংলগ্ন কচুরিপানায় ভরা একটি জলাশয় থেকে বাশার পন্ডিতের মরদেহ উদ্ধার করে দক্ষিণ আইচা থানার পুলিশ। তাঁর গলায় দাগ এবং পেটে কাটার চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় সালমা বেগম নামে এক নারী ফোন করে বাশার পন্ডিতকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নেন। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি। রোববার বেলা ১২টার দিকে সালমার বাড়ির সংলগ্ন জলাশয় থেকে বাশারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে সালমা বেগম জড়িত-এমন সন্দেহে নিহতের আত্মীয়স্বজন ও উত্তেজিত এলাকাবাসী তাঁকে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে বিক্ষুব্ধ জনতা সালমার বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং একপর্যায়ে সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে চরফ্যাশন ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত সালমা বেগমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। এ ঘটনায় সালমার স্বামী সাইদুর রহমান ও রফিক নামে দুজনকে আটক করেছে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ।
নিহত বাশার পন্ডিত উপজেলার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাশেমের ছেলে। সন্দেহভাজন সালমা বেগম একই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল মৃধার মেয়ে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ, চরফ্যাশন সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান এবং দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবিরসহ পুলিশের সদস্যরা।
নিহতের বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফোন করে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরে গলায় দাগ ও পেট কাটা অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসানুজ্জামান পিপিএম বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন সালমা ও তাঁর স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
