ফিফা এশিয়ান কাপ ডিভিশন ১-এর গ্রুপ এ-তে আজ দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস। প্রথম ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর, উভয় দলের জন্যই এটি টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট সংগ্রহ করার একটি সুযোগ। প্রথমবারে মতো ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নেয়া বাংলাদেশ হারে অভিযান শুরু করে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয় টমাস ডুলির দল। তাদের সাম্প্রতিক ফলাফলও বেশ হতাশাজনক। শেষ ৪টি ম্যাচের মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ১টিতে। সেই জয়টি এসেছিল সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে, বাকি ৩টি ম্যাচেই তারা হেরেছে। তাছাড়া, সাম্প্রতিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ কোনো গোলও করতে পারেনি। প্রীতি ম্যাচসহ সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ মাত্র ২টিতে জয় পেয়েছে, ৩টি ম্যাচ ড্র করেছে এবং ৫টিতে পরাজিত হয়েছে।
অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-০ গোলের পরাজয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে সিঙ্গাপুর। সাম্প্রতিক ফর্ম ধারাবাহিকতাহীন। শেষ ৫ ম্যাচে মাত্র ১টি জয়। তবে এতে বাংলাদেশ দলের হাল্কা করে নেয়ার সুযোগ নেই। তুলনামূলক উচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সিঙ্গাপুর এবং যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য রাখে তারা। সম্প্রতি এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফে খেলেছে, যেখানে সেমিফাইনালে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে বিদায় নেয় দলটি। তাছাড়া, বাংলাদেশের বিপক্ষে সিঙ্গাপুরের রেকর্ড শতভাগ সাফল্যের। পূর্বের ৪ দেখায় প্রত্যেকটিতে জিতেছে তারা, যার মধ্যে সর্বশেষ ম্যাচে তারা ১-০ ব্যবধানের কষ্টার্জিত জয় পায়।
দুই দলের শেষ ৪টি মুখোমুখি লড়াইয়ের ৩টিতেই ২.৫-এর বেশি গোল হয়েছে এবং উভয় দলই লক্ষ্যভেদ করেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল তাদের সর্বশেষ ম্যাচটি, যা সিঙ্গাপুর ১-০ ব্যবধানে জেতে।
প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর দুই দলের জন্যই ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা জরুরি, তাই এই ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আশা করা যায়। মুখোমুখি লড়াইয়ে শতভাগ জয়ের রেকর্ড নিয়ে স্বাগতিক সিঙ্গাপুর নিশ্চিতভাবেই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে। তবে ইতিহাস বলে, তাদের চারবারের লড়াইয়ের তিনটিতেই উভয় দল গোল পেয়েছিল। বাংলাদেশ সম্প্রতি গোল খরায় ভুগলেও, সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে তাদের ইতিহাস বলছে তারা সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম। উদ্বোধনী ম্যাচে ৩ গোল হজম করা বাংলাদেশের রক্ষণভাগের ফায়দা তোলার মতো পর্যাপ্ত মান সিঙ্গাপুরের রয়েছে; অন্যদিকে সফরকারী বাংলাদেশও ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে। এ ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে হারানোর লক্ষ্য ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনের।
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুর একাদশে জায়গা পাননি তিনি। তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে মাঠে নামেন চোট কাটিয়ে ফেরা এ ফরোয়ার্ড। মোরসালিন মাঠে নামার পর আক্রমণভাগে বাংলাদেশের গতি বাড়ে। তবে হারের ব্যবধান কমাতে পারেনি টমাস ডুলির শিষ্যরা। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা হার দিয়ে হলেও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয় চান মোরসালিন। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জিততে চেয়েছি। কিন্তু জিততে পারি নাই, এজন্য সবারই একটু মন খারাপ স্বাভাবিক, ম্যাচ হারার পরে খারাপ লাগবে। আমরা এখন চিন্তা করছি পরের ম্যাচটা নিয়ে। কীভাবে পরের ম্যাচটি জিতবো, ওই পরিকল্পনা করছি। আমরা তো এখানে জিততে এসেছি। সবার মনে করা উচিত, আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে এসেছি। তাই আমরা পরের ম্যাচ জিততে চাই, এটা আমাদের টার্গেট।’
