বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটের আদলে আয়োজন করতে যাচ্ছে নয়া টুর্নামেন্ট। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর একটি হোটেলে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ও প্রতীক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্টের নাম ‘ডি থ্রি ট্রফি’ অর্থাৎ ডমেস্টিক থ্রি টুর্নামেন্ট। শুরুতে এর নাম ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করা হয়। এই ট্রফিতে একই ব্যবস্থাপনার অধীনে চারদিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি অন্তর্ভুক্ত থাকছে। টি-টোয়েন্টি পর্ব দিয়ে ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে এই টুর্নামেন্ট যাত্রা শুরু করবে। একই মাঠে ৩০শে ডিসেম্বর এই পর্বের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবি সূচি অনুযায়ী খেলাগুলো ঢাকা ও বরিশালে ভাগ করে পরিচালনা করবে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এবং বরিশালে প্রতিদিন ম্যাচ রাখা হবে। সকালের খেলা ঢাকায় এবং বিকাল ৩টায় বরিশালে খেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি লীগের ম্যাচগুলোর জন্য করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ছয়টি দলের মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য দলগুলোর স্বত্ব প্রদান করেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো ফরচুন গ্রুপ, ব্লু স্টার লিমিটেড, সিটিজেন ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, একমি ল্যাবরেটরিজ এবং নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের দল গঠন করে মাঠে নামবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোয় দলগুলোর অংশগ্রহণ ঘরোয়া আসরে উদ্দীপনা তৈরি করবে। দলগুলো নিজস্ব পরিকল্পনায় অনুশীলন পরিচালনা করবে এবং ট্রফি জয়ের লক্ষ্যে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবে।
বোর্ড দলগুলোর সাথে যোগাযোগ রাখবে। ছয়টি দলের প্রতিনিধি হিসেবে বিসিবির ছয়জন ক্রিকেটার ও নির্বাচক দায়িত্ব পালন করবেন। এই তালিকায় রয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন, হাসিবুল হোসেন শান্ত, সাজ্জাদ শিপন, নাদিফ চৌধুরী, নাঈম ইসলাম এবং শামসুর রহমান। তারা দলগুলোর খেলোয়াড় নির্বাচন এবং দল পরিচালনায় পরামর্শ প্রদান করবেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রমে সমন্বয় রক্ষা করা তাদের কাজ হবে। ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলগুলোর মান বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক ও আর্থিক সুরক্ষার বিষয়টি এবার বিসিবি নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছ থেকে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের অর্থ আগেই সংগ্রহ করে নিজেদের তহবিলে জমা রাখবে বোর্ড। এর ফলে বিপিএলের মতো পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার সংকট তৈরি হবে না। দেশের পরিস্থিতির কারণে বিপিএল আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় ক্রিকেট সচল রাখতে এবং খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধা দিতে এই বিকল্প আয়োজন হাতে নেয়া হয়েছে। ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা দেবে। ক্রিকেটাররা মাঠে মনোযোগ দিয়ে খেলতে পারবেন এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে।
বোর্ড টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের চুক্তির অর্থ সময়মতো পরিশোধের নিশ্চয়তা দেবে।
স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিকিটে কিউআর কোড যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজকরা। এই কোড ব্যবহার করে লটারির মাধ্যমে মোটরসাইকেল পুরস্কার জেতার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। দেশের জেলা পর্যায়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটাতে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিসিবি। ঢাকা এবং বরিশালের মাঠ সংস্কার করে খেলা পরিচালনার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের ভিত্তি প্রসারিত হবে।
