ইসরাইলি শর্ত অনুযায়ী গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই

ইসরাইলি শর্ত অনুযায়ী গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই

ফন্ট সাইজ:

গাজায় জাতিসংঘের কোনো ভূমিকা নেই। যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস এ কথা জানিয়ে দিয়েছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ’কে। এর মধ্য দিয়ে ইউএনআরডব্লিউএ’কে একপেশে করে ফেলার ঘোষণা দিলো বোর্ড অব পিস। মেনে নেয়া হলো দীর্ঘদিনের ইসরাইলি দাবি। ইসরাইল যে ভাষায় কথা বলে, বোর্ড অব পিস সে ভাষায় কথা বলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির প্রাণের সংগঠন ইউএনআরডব্লিউএ’কে একপেশে করে দেয়ার ঘোষণা দিলো। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। এতে বলা হয়, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও পুনর্গঠন কাজ তদারকির দায়িত্ব পেয়েছে বোর্ড অব পিস। তারা জানিয়ে দিয়েছে, যেসব অংশীদারকে তারা নির্ভরযোগ্য মনে করবে এবং যাদেরকে তারা গাজার জনগণের প্রয়োজন মেটাতে পারবে বলে মনে করবে, শুধু তাদের সঙ্গেই কাজ করবে। বোর্ড অব পিস বলেছে, এক্ষেত্রে যে মানদণ্ড প্রয়োজন তা পূরণ করতে পারছে না ইউএনআরডব্লিউএ।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তারপর বুধবার গাজা পুনর্গঠনের জন্য বহু শত কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করে বোর্ড অব পিস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে এই পরিকল্পনা উত্থাপন করা হয়। ওদিকে যুদ্ধবিরতির মৌলিক বিষয়গুলো এখনও অচল অবস্থায় আছে। এর মধ্যে অন্যতম গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ। ১৯৪৯ সালে গঠন করা হয় ইউএনআরডব্লিউএ। উদ্দেশ্য, ইহুদি মিলিশিয়াররা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে তাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে। তাদেরকে খাবার সহ অন্যান্য সহযোগিতা দেয়ার জন্য গঠন করা হয় জাতিসংঘের ওই সংস্থা।

বাস্তুচ্যুত ওইসব ফিলিস্তিনির সেই এলাকাগুলো পরে দখল করে নেয় ইসরাইল। বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলে ইসরাইলের গণহত্যা অব্যাহত আছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা করা হচ্ছে। তাদের মানবিক সহায়তার ওপর ভয়াবহ বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। পুনর্গঠন পরিকল্পনা স্থবির হয়ে আছে। খাদ্যের ভয়াবহ সংকট চলছে। এমন সময় ইউএনআরডব্লিউএ’র বিরুদ্ধে বোর্ড অব পিস ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজার বলেন, ইউএনআরডব্লিউএ’কে এই কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখা কোনো নিরপেক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা গভীরভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত ইসরাইলি দাবি মেনে নেয়া হয়েছে।