অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধের ডাক ইসরাইলি মন্ত্রী স্মোটরিচের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে যুদ্ধের ডাক ইসরাইলি মন্ত্রী স্মোটরিচের

ফন্ট সাইজ:

এমনিতেই গাজায় নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা করছে ইসরাইল। অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে দখল করে নেয়া পশ্চিমতীরে। তার পরও গাজায় যেভাবে যুদ্ধ করছে ইসরাইল, মানুষ হত্যা করছে, বাড়িঘর ধ্বংস করে দিচ্ছে তারা, সেভাবে পশ্চিম তীরে যুদ্ধ করার উস্কানি দিয়েছেন ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ। তিনি বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর যুদ্ধে যাওয়া উচিত এবং গাজায় তারা যা করেছে, পশ্চিম তীরেও তা করা উচিত। রোববার প্রকাশিত ওয়াইনেট নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অধিকৃত পশ্চিম তীরকে বাইবেলীয় নাম ‘জুডিয়া অ্যান্ড সামারিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করে স্মোটরিচ বলেন, ইসরাইলকে ‘জুডিয়া ও সামারিয়ায় যুদ্ধে যেতে হবে, সেখানে গাজায় আমরা যা করেছি, তা করতে হবে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, কারণ এটি একটি সন্ত্রাসী কর্তৃপক্ষ।’ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনা মোকাবিলায় ইসরাইলের কী করা উচিত? এমন প্রশ্নের জবাবে স্মোটরিচ এসব কথা বলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সহিংসতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে চলতি বছর এসব হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে আরও তীব্র হয়েছে। স্মোটরিচ বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনীকে বলতে হবে, গাজায় যেমন তোমরা হামাসকে ধ্বংস করেছ, তেমনি জুডিয়া ও সামারিয়ায় কোনো সন্ত্রাসী অবকাঠামো থাকবে না। তিনি আরও বলেন, কোনো সন্ত্রাসী থাকবে না, কোনো অস্ত্র থাকবে না, কোনো সুড়ঙ্গ থাকবে না।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে সম্পর্কিত ফিলিস্তিনিদের ওপর ১ হাজার ৩৩০টিরও বেশি হামলা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ছয়টি হামলা হয়েছে, যা প্রায় ২০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিভিন্ন ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারী গোষ্ঠী বিভিন্নভাবে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গুলি চালানো, বাড়িঘর অবরোধ এবং অন্যান্য ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। বিশেষজ্ঞরা এসব ঘটনাকে ‘পোগ্রম’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলেছে, বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ক্রমেই সামরিক বাহিনীর সরবরাহ করা অস্ত্র দেখা যাচ্ছে। হামলার সময় তাদের অনেককে সামরিক পোশাকও পরতে দেখা যায়।

ফলে বসতিস্থাপনকারী ও সেনাদের মধ্যে পার্থক্যের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে। স্মোটরিচের এসব মন্তব্যের মধ্যে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ব্যাপক সামরিক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব সুক্কট উপলক্ষে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর জোরদার করা এসব বিধিনিষেধ ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এদিকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে রোববার শত শত ইসরাইলি, ইসরাইলি পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আল-আকসা মসজিদের চত্বরে ঢুকে পড়ে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরাইলিরা মরোক্কান গেট দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে এবং তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন করে। একই সময়ে ইসরাইলি বাহিনী মসজিদটির আশপাশ এবং জেরুজালেমের পুরোনো শহরজুড়ে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করে।