পারলো না ইংল্যান্ড, জয়রথ ছুটছেই স্পেনের

পারলো না ইংল্যান্ড, জয়রথ ছুটছেই স্পেনের

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও ইউরো সেরার খেতাব ধরে রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করলো স্পেন। উয়েফা ন্যাশনস লীগের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে তাদেরই মাঠে ৩-২ গোলে হারালো স্পেন। ফলে ইউরোপিয়ান দেশ হিসেবে রেকর্ড টানা ৩৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়লো ‘লা রোহা'রা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইতালিকে (৩৭ ম্যাচ) টপকে যাওয়ার পর এবার এই রাজকীয় দৌড়কে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দেয় স্পেন। ২ মিনিটের মাথায় ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মার্ক গেহির মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে বল কেড়ে নিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন লামিন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ৭৫ দিন বয়সে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ওয়েম্বলিতে কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে গোল করার ৩০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার করেন এই বার্সেলোনা ওয়ান্ডারকিড। এর আগে ১৯৯৬ ইউরোতে ১৯ বছর ৩৫৩ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়েন ডাচ কিংবদন্তি প্যাট্রিক ক্লাইভার্ট।

ইয়ামালের এই রাজকীয় পারফরম্যান্সে মুগ্ধ স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে বলেন, ‘তার পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অসাধারণ। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে তাকে দলে পেয়েছি। ম্যাচের যখন যা প্রয়োজন, ঠিক সেভাবেই সে খেলতে জানে। নিজের সেরাটার পাশাপাশি সতীর্থদের গুণাবলীকেও দারুণভাবে ব্যবহার করে সে।’

তবে বিরতির আগেই দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিক থ্রি-লায়নরা। ৩৬ মিনিটে জুড বেলিংহামের থ্রু পাস থেকে অ্যান্থনি গর্ডন সমতা ফেরান। এর চার মিনিটের মাথায় অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ক্লাসিক হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় টুখেলের দল। বিরতির পর ব্যবধান ৩-১ করার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। ডি-বক্সের ভেতর বেলিংহামকে রদ্রি ফাউল করায় পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি। তবে শট নেয়ার সময় হ্যারি কেইনের দাঁড়িয়ে থাকা পা পিছলে গেলে বল ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।

এই মিসের পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্পেন। ৬০ মিনিটে ইংল্যান্ডের নিকো ও'রাইলির ভুল পাসের ফায়দা তুলে নিয়ে গোল করে স্পেনকে ২-২ সমতায় ফেরান অ্যালেক্স বায়েনা। আর ৭৪ মিনিটে ঘটে সেই নাটকের চড়ান্ত রূপ। ২০২৪ ইউরো ফাইনালের হিরো মিকেল ওইয়ারসাবাল বদলি হিসেবে নেমে আলতো চিপে স্পেনের জয় সুনিশ্চিত করেন।

অবিশ্বাস্য এই জয়ে উল্লসিত দে লা ফুয়েন্তে খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘এই প্রজন্মের ফুটবলাররা যা অর্জন করছে তা এক কথায় অভাবনীয়। তারা প্রতিনিয়ত নিজেদের শুধরে নেয়ার জন্য ক্ষুধার্ত থাকে। পরিসংখ্যানই তাদের হয়ে কথা বলছে। স্পেন এখন যা করে দেখাচ্ছে তা করা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিটি মুহূর্তেই কীভাবে খেলতে হয় ছেলেরা তা জানে। আমরা ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে পরবর্তী ম্যাচটিকেও জীবনের শেষ ম্যাচ হিসেবে ধরে নিয়ে মাঠে নামব।’