দেশের ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতির করাল গ্রাস সম্পূর্ণ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক ফুটবলার ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলা পরিবেশ খুবই ভালো ছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পর খেলাধুলার পরিবেশটা নষ্ট করছে এই পলিটিশিয়ানরা। আগে পাকিস্তানি আমলে কোনো পলিটিশিয়ান ক্রীড়াঙ্গনে আসত না। ক্রীড়ামোদী সংগঠকরাই খেলাধুলা পরিচালনা করতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেই পলিটিশিয়ানরা ফেডারেশনের দায়িত্ব নিলে পরিবেশ নষ্ট হতে শুরু করে।’
গতকাল ঢাকা ক্লাবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সমর্থক দলের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
খেলোয়াড়ি জীবনে আক্রমণভাগে মাঠ কাঁপানো হাফিজ উদ্দিন তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি টুর্নামেন্টে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেন। স্বাধীন দেশে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে এক ম্যাচে ছয় গোল করে ডাবল হ্যাট্রিকের নজিরও গড়েন। একসময় ছিলেন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের অধিনায়ক।
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দল নির্বাচনেও অবিচারের শিকার হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে প্রথম ফুটবল টিম সিলেক্ট করল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র শেখ কামাল। আর আমি দুই ম্যাচে সাত গোল দেয়ার পরও বাদ পড়লাম। তারা নানাভাবে প্লেয়ার পিক করত।’
ক্লাব ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব ও খেলোয়াড় ছিনিয়ে নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা একটা ক্লাব গঠন করেছে, এখন বিখ্যাত ক্লাব (আবাহনী)—সেখানে অন্য দল থেকে জোরপূর্বক খেলোয়াড় নেয়া হতো। মোহামেডানেরও দুই-তিনজন প্লেয়ারকে তারা এভাবে নিয়ে গিয়েছিল।’
ফুটবলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘এখন তো খেলাধুলার সেই পরিবেশ আর নাই। অধিকাংশ খেলা শুনি পাতানো খেলা হয়। যার ফলে যারা রিয়েলি চ্যাম্পিয়ন, তারা আসলে খেলে চ্যাম্পিয়ন হয় না...এই অবস্থার অবসান হওয়া প্রয়োজন। ফুটবলের মতো একটা জনপ্রিয় খেলা যদি এইভাবে ধুঁকতে থাকে, তাহলে কীভাবে এই জাতির মুক্তি হবে?’
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণ সমাজকে অপরাধ ও মাদকের অন্ধকার জগৎ থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলাকে হাতিয়ার করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্য দেন রেলপথ, সড়ক ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, সংসদ সদস্য খাইরুল কবীর খোকন ও মো. হাতেম। মোহামেডান সমর্থক দলের সভাপতি এস এম আলমগীর আবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এফ এম রফিক উদ্দিন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় দেয়া হয়।
